লোড হচ্ছে
অপেক্ষা করুন

হিজামা কি?

হিজামার নিয়ে দেশে ও বিদেশে অনেক ধরণের কথা প্রচলিত। প্রচলিত কথার বাইরে গিয়ে সুন্নাহ ও বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে হিজামা বা Wet Cupping Therapy কে ব্যাখ্যা করার চেষ্টা। উদ্দেশ্য হচ্ছে সুন্নাহর প্রচার যেন হয় সঠিকভাবে। ভুল ব্যাখ্যা ও মনগড়া কথার দ্বারা যেন এই প্রসেস এর মান নীচু না হয়।

সূচীপত্র

হিজামা কি ও কিভাবে করা হয়?

হিজামা শব্দটি আরবি হাজামা বা হাজ্জামা ক্রিয়া থেকে এসেছে যার অর্থ হচ্ছে কমিয়ে ফেলা, আসল আকারে ফিরিয়ে নেয়া, বা আকারে ছোট করে ফেলা ইত্যাদি।
আরবিতে তারা বলে যে এক লোক সমস্যাটা ছোট করে ফেলেছে- এর অর্থ হচ্ছে “সে সমস্যাটা আগে অবস্থায় ফিরিয়ে নিয়ে গেছে।”
আরও একটা ভার্ব বা ক্রিয়া আছে “আহজামা” যার মানে যুদ্ধক্ষেত্র থেকে পিছিয়ে আসা বা অস্ত্র সংবরণ করা।
তার মানে, যে হিজামা করে (অর্থাৎ হাজ্জাম) সে রোগকে বাধা দেয় বা সংবরণ করে রোগীকে আক্রান্ত করা থেকে।
আমাদের শরীরে প্রতিনিয়ত মেটাবলিক বাই-প্রোডাক্ট তৈরি হচ্ছে। রোগ-জীবাণুর আক্রমণে বা ব্যাবহার এর কারণে বিভিন্ন রক্তকণিকা ও টিস্যুর ক্ষতিসাধন হচ্ছে। মানুষের বয়স যত বাড়তে থাকে মানুষের শরীরের বিভিন্ন স্থানে মাসল ও টিস্যুর মধ্যে এই মেটাবলিক বাই প্রোডাক্ট ট্র্যাপ হচ্ছে। এর একটি উৎকৃষ্ট উদাহরণ হচ্ছে আমরা যদি জোরে হাটতে বা দৌড়াতে থাকি তবে কিছুক্ষণের মধ্যেই আমাদের পায়ে ব্যাথা শুরু হয়ে যায়। এর কারন হচ্ছে মেটাবলিক বাইপ্রোডাক্ট আমাদের মাসলে জমা হয়ে নার্ভ এন্ডিং গুলোর পেইন রিসেপ্টরে স্টিমুলেশান দেয়। আবার কিছুক্ষণ রেস্ট নিলে এই পেইন কমে যায়, কারন বাই প্রোডাক্টগুলোকে ব্লাড ফ্লো করে ডাইলিউট করে দেয় এবং কিডনি বা লিভার বা
ঘর্মগ্রন্থি তাদের নিজস্ব প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এগুলোকে পুনরায় ব্যাবহার্য্য করে অথবা সেটা সম্ভব না হলে শরীর থেকে বের করে দেয়।
আমাদের শরীরে ছোট ছোট রক্তনালী (ক্যাপিলারি ও ভেনিউলস) ও নার্ভ (নিউরন) জালিকার মত বিছিয়ে রয়েছে। বিভিন্ন জীবাণুর আক্রমণে বা বিভিন্ন শরীরবৃত্ত্বীয় প্রকৃয়ায় আমাদের রক্তকণিকা ক্ষতিগ্রস্থ হয়। এগুলো অনেক ক্ষেত্রেই এইসব ছোট ছোট রক্তনালীতে ট্র্যাপ হয়ে পড়ে এবং রক্ত প্রবাহে বাঁধার সৃষ্টি করে।

হিজামার ইতিহাস

হিজামা (কাপিং থেরাপী) একটি সহজ, নিরাপদ এবং একই সময়ে খুবই কার্যকারী চিকিৎসা ব্যবস্থা। এটি মূল চিকিৎসা ব্যস্থার সাথে একটি অল্টারনেটিভ থেরাপী হিসেবে হাজার বছর ধরে চর্চা হয়ে আসছে। প্রাচীন মিশরীয় এবং চাইনিজ চিকিৎসকদের আদি লিপি হতে এর নিশ্চিত প্রমাণ পাওয়া যায়।

বিংশ শতাব্দীতে হিজামা একটি সহজ এবং কার্যকারী অল্টারনেটিভ চিকিৎসা ব্যবস্থা হিসেব গতানুগতিক চিকিৎসা বিজ্ঞানে যোগ হয়েছে।পূর্ব থেকে পশ্চিম এবং উত্তর থেকে দক্ষিণ, অনেক সভ্যতা হিজামা চর্চা করে আসছে একটি “ঘরোয়া চিকিৎসা ব্যবস্থা” হিসেবে। প্রাক যুগে গবাদী পশুর শিং দিয়ে হিজামা করা হতো। এটাকে তাই “Horn Therapy” ও বলা হতো। এরপর ধারাবাহিকভাবে আসে বাঁশ, গ্লাস, প্লাস্টিক ইত্যাদি।

চীনা ইতিহাসঃচীনে হিজামা “কাপিং থেরাপী” নামে সুপরিচিত।প্রাচীন চাইনিজ রেকর্ড অনুযায়ী প্রাচীন “বশু” যা আবিষ্কৃত হয় হান ডাইনাস্টির প্রাচীন স্তম্ভ হতে ১৯৭৩ সালে যেখানে কাপিং এর কথা পাওয়া যায়।

এছাড়া ২৮ খ্রিস্টাব্দতে “জো হো ফাং” বই এ এবং ৭৫৫ খ্রিস্টাব্দে “উইতাইমিয়াও” তে যক্ষ্মা চিকিৎসায় কাপিং এর তথ্য পাওয়া যায়। এরপর তিনশত বছর পর আরেকটি প্রাচীন বই “সুসেন লিয়াং ফাং” এ পাওয়া যায় কাপিং দ্বারা কার্যকারীভাবে দীর্ঘমেয়াদী কাশি এবং বিষাক্ত সাপের কামড়ের সফল চিকিৎসার তথ্য। প্রায় ৫০০ বছর আগে, উইকেযেন জং নামে একজন বিখ্যাত চিকিৎসক হিজামাকে সার্জিকাল প্রাক্টিসের অন্তর্ভুক্ত করেন।

চীনা সমাজে কাপিং চিকিৎসার আধিপত্যের দরুন, আধুনিক চাইনিজ চিকিৎসা বিজ্ঞানেও হিজামা নিজের স্বতন্ত্র স্থান করে নিয়েছে বর্তমানে। ১৯৫০ সালে হিজামার উপকারীতা এবং কার্যাকারীতা রিসার্চ দ্বারা প্রমাণিত হয় এবং কাপিং থেরাপী নামে অফিসিয়াল থেরাপী হিসেবে চায়নার সব হাসপাতালে যুক্ত হয় “হিজামা”।চীনা একটি প্রবাদ বাক্য – ” আকুপাংচার এবং কাপিং, অর্ধেকেরও বেশী রোগ নিরাময় করে”।

পশ্চিমা বিশ্ব এবং মধ্যপ্রাচ্যে হিজামাঃ-লন্ডনের হিজামা বিশেষজ্ঞ স্যামুয়েল বেফিল্ড ১৮২৩ খ্রিস্টাব্দে বলেছেন, “হিজামা একটি শিল্প”। -হাজার বছর ধরে চিকিৎসা বিজ্ঞানের লেখকরা হিজামাকে দুই ভাগে ভাগ করেছেন- শুষ্ক (Dry Cupping) এবং আদ্র (Wet Cupping)। ড্রাই কাপিং এ শরীর থেকে কোনো রক্ত বের করা হয় না। পক্ষান্তরে, ওয়েট কাপিং শুরু করা হয় শুষ্ক কাপিং দিয়ে, এরপর ধারাবাহিকতায় কাটার ফলে রক্ত বের হয়।

-মিশরের প্রধান রাবী, রাবী মশে বিন মাসুন, তার বইয়ে হিজামার কথা বলেছিলেন।মুসলিম বিশ্বে হিজামাঃ -প্রাগৈতিহাসিক যুগ ধরেই মুসলিমরা হিজামা চর্চা করে আসছে। চীনা সমাজে যা কাপিং নামে পরিচিত তা মুসলমানদের মধ্যে “হিজামা” নামে প্রসিদ্ধ।-সর্বশেষ নবী এবং রাসূল হযরত মুহাম্মাদ (সল্লাল্লহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নিয়মিত হিজামা করাতেন এবং অন্যদেরও উৎসাহ দিতেন। হিজামা নিয়ে রয়েছে সহস্রাধিক হাদিস।

-দামেস্কের লেখক ইমাম ইবনে কাইয়ুম আল জাজিয়া এর লিখিত বই “Healing with Medicine of Prophet” এ এসেছে হিজামা তে রয়েছে বহু রোগের শেফা।

হিজামা করতে কি কি যন্ত্রপাতি লাগে আর সেগুলো কোথায় পাওয়া যায়?

হিজামা খুব সহজ একটি প্রসেস। আদি যুগ থেকে এই প্রচলিত। ধারনা করা হয় এই চিকিৎসা ওহীর মাধ্যমেই প্রাপ্ত। তাই সেই আদিযুগের অবস্থা বিবেচনা করলে তখন আধুনিক কালের মত এত সরঞ্জাম ছিল না। সব কিছু ভালভাবে জানা থাকলে, আপনার কাছে যদি কোন কিছু না থাকে তবে পানি খাওয়ার গ্লাস দিয়েও হিজামা করতে পারবেন। কিন্তু এখন আধুনিক যুগে দূষণ ও রোগের প্রকোপ এত বেড়ে গেছে যে সাবধানতা অবলম্বন না করলে বিপদ হতে পারে। তাই আধুনিক ও প্রফেশনাল হিজামাতে চেষ্টা করা হয় ডিসপোজেবল জিনিসপত্র ব্যাবহার করতে।হিজামা করতে যা যা লাগেঃ

  1. হিজামা কাপ ও ভ্যাকিউয়াম পাম্প
    এখন বাংলাদেশেই কাপ তৈরি হচ্ছে। দাম খুবই কম। ১০০ কাপের মূল্য ১০০০ টাকা মাত্র, এগুলো ডিসপোজেবল , অর্থাৎ একবার ব্যাবহার করে ফেলে দিতে হবে। অর্ডার করতে ফোন করুনঃ +8801612877464
  2. স্টেরাইল বা জীবাণুমুক্ত ব্লেড
    স্কিলড বা অভিজ্ঞ হাজ্জাম বা হিজামা থেরাপিস্টদের উচিৎ সাধারণ শেভিং ব্লেড ব্যাবহার করা। প্রতি পেশেন্টের জন্য নতুন ব্লেড ব্যাবহার করতে হবে। এই ব্লেডগুলো সাধারণ গ্রোসারি স্টোরেই পাওয়া যায়। ভাল ব্র্যান্ডের (যেমন জিলেট) ব্লেড ব্যাবহার করা উচিৎ যাতে স্টেরিলিটি নিয়ে কোন সন্দেহ না থাকে।
  3. এ্যাপ্রন (ডিসপোজেবল/ পলি ইথলিন/ কাপড়ের)
    বিভিন্ন ধরনের ডিসপোজেবল এ্যাপ্রন দোকান ভেদে ৫৫ থেকে ৮০ টাকার মধ্যে পাওয়া যায়।
  4. গ্লাভস
    এগুলো লেটেক্স এর তৈরি। যে কোন ফার্মেসিতে পাওয়া যায়। প্রতি বক্সে ১০০ গ্লাভস থাকে। দাম ২২০ থেকে ৪০০ এর মধ্যে।
  5. মাস্ক
    সব ধরনের ফার্মেসি বা মেডিকেল স্টোরেই ডিসপোজেবল মাস্ক পাওয়া যায়। অনেকেই ডিসপোজেবল মাস্ক কয়েকদিন ব্যাবহার করেন, কিন্তু আসলে একটি ডিসপোজেবল মাস্ক এর কার্যক্ষমতা আড়াই ঘন্টা। এর মেসি সময় অতিবাহিত
  6. স্কিন স্টেরিলাইজার
    1. ১০% আয়োডিন সলিউশান, অথবা
    2. ৭০% এ্যালকোহল, অথবা
    3. কালোজিরার তেলও ব্যাবহার করা যায়
      এগুলো সকল ফার্মেসি মা মেডিকেল স্টোরে পাওয়া যায়।
  7. অলিভ অয়েল
  8. হিজামা বেড
  9. ফ্লোর ম্যাট
  10. কটন রোল বা কিচেন টিস্যু (রক্ত মোছার জন্য)
  11. বেড কভারিং পলি ইথিলিন বা ক্লিনিকাল টিস্যু
  12. বিন ব্যাগ
  13. বিন বা বর্জ ফেলার জন্য বালতি বা এ ধরনের কিছু।

হিজামা এর মাধ্যমে যে সব রোগের উপকার হয়

  1. মাইগ্রেন জনিত দীর্ঘমেয়াদী মাথাব্যথা
  2. রক্তদূষণ (Septicemia)
  3. উচ্চরক্তচাপ (High blood pressure/ Hypertension)
  4. ঘুমের ব্যাঘাত (insomnia)
  5. স্মৃতিভ্রষ্টতা (Memory loss)
  6. অস্থি সন্ধির ব্যাথা (joint pain)
  7. পিঠের ব্যাথা (Back pain)
  8. হাঁটু ব্যাথা (Knee pain, knee osteoarthritis)
  9. দীর্ঘমেয়াদী সাধারন মাথা ব্যাথা (Headache)
  10. ঘাড়ে ব্যাথা
  11. কোমর ব্যাথা
  12. পায়ে ব্যাথা
  13. মাংসপেশীর ব্যাথা (muscle strain), মাসল পুল
  14. দীর্ঘমেয়াদী পেট ব্যথা
  15. হাড়ের স্থানচ্যুতি জনিত ব্যাথা, ফ্র‍্যাকচার পেইন
  16. থাইরয়েড গ্রন্থির সমস্যা
  17. সাইনুসাইটিস
  18. হাঁপানি (asthma)
  19. Motion Sickness
  20. Tonsilitis
  21. Otitis Media
  22. হৃদরোগ (Cardiac Disease)
  23. রক্তসংবহন তন্ত্রের সংক্রমন
  24. টনসিলাইটিস, ফ্যারিঞ্জাইটিস, ব্রংকাইটিস
  25. দাঁত/মুখের/জিহ্বার সংক্রমন
  26. গ্যাস্ট্রিক পেইন, গ্যাস্ট্রিক আলসার, এসিডিটি
  27. Esophageal varices
  28. IBS
  29. Intoxication (বিষক্রিয়া)
  30. মুটিয়ে যাওয়া (obesity)
  31. দীর্ঘমেয়াদী চর্মরোগ (Chronic Skin Diseases)
  32. ত্বকের নিম্নস্থিত বর্জ্য নিষ্কাশন
  33. ফোঁড়া-পাঁচড়া সহ আরো অনেক রোগ,
  34. ডায়াবেটিক ফুট,
  35. ভার্টিব্রাল ডিস্ক প্রোল্যাপ্স/ হারনিয়েশান,
  36. চুল পড়া ( Alopecia/ Hair fall),
  37. মানসিক সমস্যা (Psychological disorder),
  38. পারকিনসন্স ডিজিজ
  39. কিডনির সমস্যা
  40. স্পোর্টস ইঞ্জুরি (খেলোয়াড়, আর্মি, কনট্যাক্ট স্পোর্টস)
  41. কানের সমস্যা
  42. ক্যান্সারের ব্যাথা নিয়ন্ত্রন,
  43. লিভার ডিজিজ, পোর্টাল হাইপারটেনশান,
  44. হরমোনাল সমস্যা,
  45. ব্রেইন ডিজিজ ও ডিজঅর্ডার,
  46. ক্রনিক কফ
  47. Erectile Dysfunction (ED)
  48. ব্রন,
  49. সিস্টেমিক লুপাস ইরাইথেমেটোসাস (SLE),
  50. অনিয়মিত মাসিক, মেয়েদের অন্যান্য সমস্যা,
  51. এডিকশান/ ডিপেন্ডেন্সি (স্লিপিং পিল, ড্রাগস, কফ সিরাপ, জর্দা, সিগারেট, এলকোহল ও অন্যান্য নেশাদ্রব্য)
  52. TMJ Dysfunction Syndrome
  53. প্যারালাইসিস/ প্যারেসথেসিয়া/ নার্ভ ইনজুরি
    1. Guillain–Barré syndrome (গিয়েন বারে সিন্ড্রোম- এক ধরণের প্যারালাইসিস)
    2. স্ট্রোক, মেরুদন্ডে আঘাত, ফেসিয়াল প্যারালাইসিস বা বেল’স পলসি প্রভৃতি
  54. অস্টিওপোরোসিস (Osteoporosis, হাড়ের ক্ষয়)
  55. Post menopsusal hot flush
  56. Vaginismus
  57. vertigo (মাথা ঘোরা)
  58. কার্পাল টানেল সিন্ড্রোম
  59. Early Cerebral Infarction
  60. Brachialgia paraesthesia nocturna
  61. Trigeminal neuralgia, trigeminal neuritis, facial neuritis
  62. Laziness, lassitude, somnolence
  63. Some psychiatric conditions
  64. Rheumatiod Arthritis
  65. শ্বেতী (Vitiligo)
  66. Thyroid autoimmunity (Graves disease and Hashimoto’s Thyroiditis)
  67. Goodpasture syndrome (GPS), also known as anti-glomerular basement membrane disease, is a rare autoimmune disease in which antibodies attack the basement membrane in lungs and kidneys, leading to bleeding from the lungs and kidney failure.
  68. Multiple Sclerosos
  69. Scleroderma
  70. Addisn’s disease
  71. Insulin Dependant Diabetes mellitus (ডায়াবেটিস)
  72. Autoimmune anemia & Pernicious anemia
  73. Myasthenia Gravis
  74. Acanthosis Nigricans
  75. Ankylosing Spondylitis
  76. Cold Aglutinin Disease
  77. Gout and Gouty Arthritis
  78. Thyroid Dysfunction
  79. Condition of Hormonal Imbalance
  80. Hyperlipidemia & Hypercholesterolemia
  81. Cellulitis
  82. Some Viral Infection (eg. Herpes Zoster)
  83. Viral Hepatitis B & C
  84. Thalassemia (to excrete excess iron and fragmented cells)
  85. Sideroblastic anemia (to excrete excess iron)
  86. Hemolysis (to excrete liberated hemoglobin and fragmented cells)
  87. Conditions of impaired immunity
  88. Alopecia
  89. Chronic fatigue syndrome
  90. Glaucoma
  91. Pain of dysmenorrhea

এবং আরও অনেক রোগ।

হিজামার কাপ ও যন্ত্রপাতি কেন ডিসপোজেবল হওয়া উচিৎ?

আপনারা যারা যারা ডিসপজেবল হিজামা কাপ রি-ইউজ করছেন তারা সকলেই হাশরের ময়দানে ধরা খাবেন বান্দার হক্ব নষ্ট করার জন্য। বাংলাদেশে যে কাপগুলো পাওয়া যায় এগুলো স্টেরিলাইজ বা জীবানুমুক্ত করা যায় না। এগুলো বার বার ব্যাবহার করার মাধ্যমে এক রোগীর জীবানু অপর রোগীর শরীরে চলে যেতে পারে।অনেকের কাছেই শুনছি যে যারা ট্রেনিং দিচ্ছেন তারা বলছেন সাবান/ শ্যাম্পু/ ডিটারজেন্ট বা ডেটল পানি দিয়ে ধুয়ে কাপ রিইউজ করার পরামর্শ দেন বা অনেক থেরাপিস্ট এত এত বছর ধরে এভাবে করেন। আসলে এভাবে কাপ জীবানুমুক্ত করা সম্ভব নয়। ফুটানো পানিতে আধা ঘন্টা সিদ্ধ করলেও এগুলো জীবানুমুক্ত হয় না।অনেকেই বলবেন যে রোগ ছড়ায় না। তাদের জন্যঃসিরিয়ায় একবার ব্যাপক আকারে মহামারীরুপে প্লেগ দেখা দিয়েছিলো। হযরত ওমর (রা.) সাহাবাদের সাথে সেখানে রওয়ানা হয়েছিলেন, কিন্তু এখবর পাওয়ার পর যাত্রা স্থগিত করেন। একজন সাহাবী জিজ্ঞেস করলেন, হে আমীরুল মুমেনীন! আপনি কি আল্লাহর লেখা তাক্বদির থেকে পলায়ন করছেন? তিনি বললেন, হাঁ, আমি আল্লাহর লেখা একটি তাক্বদির থেকে অন্য একটি তাক্বদিরের দিকে পলায়ন করছি। অর্থাৎ, রোগ থেকে দুরে চলে যাওয়াও তাক্বদিরের একটি অংশ।এটা অনেকটা এমন যে, আল্লহর হুকুম ছাড়া মউত হয় না, তাই আপনি কি ছাদ থেকে লাফ দিয়ে টেস্ট করবেন যে মউত হয় কিনা? সৌদি আরবে অযোগ্য লোকদের হিজামা প্র্যাকটিস ও ডিসপজেবল ম্যাটেরিয়াল মাল্টিপল ব্যাবহারের কারনে হিজামা ব্যান করে দেয়া হয়েছিল। এরপর নিয়ম হয়েছে মিনিমাম ৬ মাসের মেডিকেল এডুকেশানের ব্যাকগ্রাউন্ড আছে এমন ব্যাক্তি ছাড়া কেউ হিজামা করতে পারবে না।হিজামার ব্যাপারটা এমন হয়েছে যে সেদিন দেখলাম এক লোক দারিদ্র বিমোচনের জন্য হিজামা শিখাচ্ছেন। আপনাদের জন্য আমি বলব- আল্লহকে ভয় করুন। সুন্নতকে কলুষিত করবেন না। ইসলামে চিকিৎসা বিজ্ঞান একটি আলাদা অংশ। এর ইলম হাসিল না করে চিকিৎসা করা নিষেধ।আমার মনে হয় এই ব্যাপারে মুফতি সাহেবদের ফতোয়া তৈরি করা উচিৎ যাতে মানুষ সাবধান হয়। সরকার বা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় যদি এই যথেচ্ছাচারের ব্যাপারে জানতে পারে তবে তা এই সুন্নতী চিকিৎসার ভবিষ্যতের জন্য ভাল হবে না।কাপ রিইউজ করলে অনেক ধরনের রোগ হতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে জীবনঘাতী

  • এইডস, হেপাটাইটিস বি ও সি (এগুলো থেকে হতে পারে লিভার সিরোসিস বা লিভার ক্যান্সারের মত রোগ),
  • হতে পারে ইনফেকশান (স্কিন ইনফেকশান, সেপটিসেমিয়া ও যৌন রোগের মত সমস্যা), যা কারন হতে পারে মৃত্যুর, ডেকে নিয়ে আসতে পারে পঙ্গুত্ব।

আল্লহ বুঝ দান করেন। সহজ করেন।

এ্যানাটমি অফ হিজামা কাটস

প্রায়ই রোগীরা আসেন যারা হিজামা করিয়েছেন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে, উপকার তেমন পাননি কিন্তু পেয়েছেন পার্মানেন্ট “স্কার মার্ক”!

স্কার মার্ক কি?

স্কার মার্ক কি- সেটা জানার আগে জানতে হবে স্কিনে কয়টা লেয়ার আছে এবং কি কি?

  1. এপিডার্মিসঃ স্কিনের ১ম স্তর। প্রতি ২১ দিন অন্তর অন্তর এই লেয়ার নতুন করে পুনর্গঠিত হয়। হিজামার স্ক্রাচ মূলত এই স্তরেই দেয়া হয়।
  2. ডার্মিসঃ স্কিনের ২য় স্তর। নেগেটিভ সাকশানের কারনে এখানে হাইপারেমিয়া হবে, এখানে কাট বা ইনজুরি হবে তবে সেটা প্যাপিলারি লেয়ারের মাইক্রোভেসেলস বা ক্যাপিলারি পর্যন্ত সীমাবদ্ধ হবে। অর্থাৎ আসলে স্ট্রেট লাইন টানলে সেটা এপিডার্মিসের মধ্যেই সীমাবদ্ধ।
  3. সাবকিউটানিয়াস স্তরঃ সর্বশেষ স্তর। কোনো পরিবর্তন নেই।

এপিডার্মিসের প্যাপিলা স্ক্যালোপড শেইপের হয়। এই এই প্যাপিলার কনকেইভিটির ভেতরে ছোট ছোট রক্তনালী থাকে।

স্কার মার্ক হলো স্কিনের ২য় স্তর ডার্মাল লেয়ারে একগুচ্ছ অসংগতিপূর্ণ কোলাজেন টিস্যু গুচ্ছ।

যেকোনো আঘাতের পর সময়ের সাথে সাথে টিস্যু পুনরায় রিজেনারেট করতে চেষ্টা করে, তবে ত্বক কখনোই তার মূল অবস্থায় ফিরে যাবে না – বিশেষ করে যদি কাট ডেপথ এপিডার্মিস (Epidermis) অতিক্রম করে স্ক্যালোপড বেইজমেন্ট মেমব্রেনের এর নীচের যে দাগ টানা হয়েছে সেটা পেরিয়ে যায় ( স্কিন এর নীচের স্তর)।

হিজামা করলে কি স্কার মার্ক হওয়া সম্ভব?

হিজামাতে কাটা হয় এটা সবাই কম বেশী জানি। কিন্তু এই কাটাটা কেমন? গভীরতা কতটুকু?প্রথমত, হিজামাতে কাটা হয় না। Scratch (স্ক্র‍্যাচ) কিংবা আঁচড় দেয়া হয়। এই স্ক্রাচ মার্ক শুধুই স্কিনের প্রথম লেয়ার এপিডার্মিস পর্যন্ত হবে। আগেই বলেছি এপিডার্মিস লেয়ার প্রতি ৩ মাসে নতুন করে হয়ই, এই স্ক্রাচ মার্ক ২৪ ঘন্টা থেকে ৭ দিনের মধ্যেই হিল হবে ইন শা আল্লাহ এবং পরবর্তীতে স্কিনে কোনো দাগ অবশিষ্ট থাকবে না।তবুও কেনো কখনো কখনো হিজামা করার মাস খানেক পর কিংবা কয়েক বছর পরও দাগ দেখা যায়?এই দাগ গুলো কিছুটা প্রেগন্যান্সির সময়ের স্ট্রেস মার্ক এর মতো দেখায়।
হিজামায় তো স্ক্র‍্যাচ দেয়া হয় তাহলে এই দাগ কেনো রয়ে গেলো?
এখানে দুটি ফ্যাক্টর হতে পারেঃ

  1. যিনি হিজামা করেছেন উনি হিজামা সম্পর্কে অনভিজ্ঞ। হাদীসে আছে ” হিজামার কাটাতেই শেফা” – আর এই কাটাই যে পারেন না সে হিজামা কি করবে? কেনো করবে?
  2. হিজামার স্ক্র‍্যাচ মার্ক স্কিনে স্কার মার্ক তখনই হবে যখন স্ক্র‍্যাচ হয়ে যাবে কাট (Cut/ incision) এবং তা গিয়ে পড়বে স্কিনের ২য় স্তর ডার্মিসে। ফলাফল এই দাগ চিরস্থায়ী।

এই দাগের চিকিৎসা লেজার থেরাপী, এছাড়া অন্যান্য ব্যয়বহুল চিকিৎসাও রয়েছে।

হিজামা একটি জনপ্রিয় সুন্নাহ ও বিজ্ঞানভিত্তিক চিকিৎসা পদ্ধতি।

হিজামা একটি ব্যাথামুক্ত ও ঔষধমুক্ত চিকিৎসা পদ্ধতি। হিজামা করতে কোন ব্যাথা লাগে না। এটাতে কোন কাটাছেঁড়া করা হয় না। হালকা স্ক্র্যাচ করা হয়। এতে একটু কড়া সুড়সুড়ি অনুভূত হয় মাত্র, ভয়ের কোনই কারণ নেই।

হিজামা থেরাপী নেয়ার বা দেয়ার সময় তাই সবার সতর্ক হওয়া উচিৎ। আসুন সুন্নাহকে অবহেলা না করে হিজামা করা বা করানোর আগে এ বিষয়ে স্টাডি করি। শুধু সুন্নাহ নয়, অভিজ্ঞ চিকিৎসক কে জিজ্ঞেস করুন হিজামা কিভাবে কাজ করে, কোন রোগে কিভাবে করতে হয়, ইত্যাদি নানা প্রশ্ন। বাংলাদেশে তো হিজামা এখন এমন ব্যবসা হয়েছে যে হিজামা কিভাবে কাজ করে জানে না, কিন্তু বই লিখছে, ট্রেনিং দিচ্ছে।

যেখানে হাদিসে এসেছে চিকিৎসা শাস্ত্রে অনভিজ্ঞ কেউ যদি চিকিৎসা দেয় তাকে জবাবদিহি করতে হবে।যারা হিজামা প্রাকটিস করছেন আরো পড়াশুনা করুন, শিখুন। ইউটিউব আর কোয়াক দের থেকে নয়, হিজামা বিশেষজ্ঞ দের থেকে ট্রেনিং নিন, পরামর্শ করুন।

নাহলে জবাবদিহির জন্য প্রস্তুত থাকুন। আর যারা মেডিকেল ব্যাকগ্রাউন্ডের তারাও শিখুন, পড়ুন তারপর চর্চা করুন। সার্টিফিকেট এর অপব্যবহার বন্ধ করুন প্লিজ। শেখায় লজ্জা নেই, ভুল চিকিৎসা দেয়ায় লজ্জা। আপনাদের কোন বিষয়ে জানার দরকার হলে আমাদের কাছে আসুন, আসতে না পারলে আমাদের গ্রুপে প্রশ্ন করুনঃ Hijama Planet: Cupping and Ruqyah Center

আমাদের কাছে স্কার মার্ক ছাড়াও পেশেন্ট আসে ব্লিস্টার নিয়ে। আর ট্রিটমেন্ট প্লান এ তো পয়েন্ট ভুলে ভরা। তাই যারা প্রাক্টিস করেন এনাটমি, ফিজিওলজি, প্যাথোলজি পড়ুন। সম্ভব না হলে, অন্তত অভিজ্ঞ কারো ট্রিটমেন্ট প্লান ফলো করুন। অনলাইনে বা অন্যান্য বইয়ে যেসব ট্রিটমেন্ট প্ল্যান পাওয়া যায় তার বেশিরভাগই কোন রোগীর উপর ভিত্তি করে তৈরি। আপনার রোগীর ট্রিটমেন্ট প্ল্যানও তাদের সাথে মিলবে না।

সবাই কি হিজামা করতে পারবে? কার কাছে হিজামা করাবেন?

আজকে ইউটিউবে আমি সার্জারী শিখে, কালকে আপনাদের লাইভে শিখাবো।কে কে শিখবেন বলেন?কি? অদ্ভুত লাগছে শুনতে? অসম্ভব লাগছে? আমাকে পাগল মনে হচ্ছে?কেনো? আপনারাই তো খুব এক্সাইটেড লাইভে/ ইউটিউবে হিজামা শেখা নিয়ে। ফ্রি তে শিখতে পারবেন সুন্নাহ চিকিৎসা। সার্টিফিকেট বিহীন ডাক্তারী। মৃত সুন্নাহ জাগিয়ে তুলবেন। হিজামা তো সুন্নাহ, ইসলামিক চিকিৎসা, হাদিসে আছে তাই সমগ্র মুসলিম এর অধিকার আছে চর্চা করার। তাই না?

অবশ্যই আপনাদের হিজামা শেখা- করার অধিকার আছে। কিন্তু তাই বলে লাইভ দেখে? ইউটিউব দেখে? একবার রোগী হয়ে হিজামা করিয়ে, পরের দিন নিজেই রোগী দেখা?না। আপনার এই হক নেই। চিকিৎসা বিদ্যায় জ্ঞ্যান অর্জন ছাড়া হাদিস আপনাকে অনুমতি দেয় না, সরকার ও দেয় না।কারা হিজাম করতে পারবেনঃ

  1. ডাক্তাররা যেমন এমবিবিএস/ বিডিএস।
  2. দেশে বা বিদেশে হিজামা নিয়ে অন্তত পক্ষে ৬ মাসের কোর্স করা, এছাড়াও হিজামা নিয়ে এক/দুই/ তিন বছরের ডিপ্লোমা/অনার্স/পিএইচডি করা যারা আছেন তারা অগ্রাধিকার পাবেন।
  3. অন্যান্য অল্টারনেটিভ চিকিৎসকরা যেমন ফিজিওথেরাপিস্ট, ইউনানী ও আয়ুর্বেদিক হেকিম, হোমিওপ্যাথিস্ট
  4. মেডিকেল এসিস্ট্যান্ট বা স্যাকমোরা।
  5. গ্রাম ডাক্তাররা।
  6. এছাড়াও যারা পর্যাপ্ত সময় কোন শায়খ বা শিক্ষক যিনি সঠিকভাবে হিজামা করতে পারেন তার কাছে থেকে যদি কেউ হিজামা করার অনুমতি প্রাপ্ত হন তবে সেও হিজামা করতে পারবে। এটা শরীয়ত সম্মত হলেও আইনসম্মত নয়।

অর্থাৎ যাদের অন্তত পক্ষে ৬ মাসের মেডিকেল ব্যাকগ্রাউন্ড আছে তারাই প্রফেশনালি হিজামা করতে পারবেন- এটাই আমাদের সরকারী আইন বলে। আপনি যদি কোন মেডিকেল প্রফেশনাল না হন, অর্থাৎ সঠিকভাবে চিকিকিৎসা না শিখে থাকেন তাহলে ইসলামও আপনাকে চিকিৎসা করার অধিকার দেয় না। আর ওপরের যে কয়টি পয়েন্ট বললাম তাদের সবাইকেই হিজামা শিখে হিজামা করার আইনী অধিকার আছে। এই পয়েন্টটা নোট করবেনঃ হিজামা শিখতে হবে। আমাদের দেশে মাত্র চার- পাঁচজন ডাক্তারকে (এমবিবিএস/ বিডিএস) আমি চিনি যারা আসলেই হিজামা সাইন্স বোঝেন। আর যারা ডাক্তার নন তাদের হালত কি হতে পারে সেটা সহজেই অনুমেয়।আপনি শিখুন, পড়াশুনা করুন, কোর্স করুন, এমন কারো কাছে হাতে কলমে শিখুন যে নিজে অভিজ্ঞ কারো কাছে ট্রেনিং প্রাপ্ত এবং দীর্ঘদিন হিজামা করার অভিজ্ঞতা সম্পন্ন। যার কাছে হিজামা করাচ্ছেন বা শিখছেন তাকে জিজ্ঞেস করুন আপনি হিজামা কার কাছ থেকে শিখেছেন? ইসলামে এই লার্নিং চেইনের কদর সবচেয়ে বেশি। চেইনে ব্রেক থাকলেই বুঝতে হবে সমস্যা আছে। যে হিজামা করছে বা যার কাছ থেকে শিখেছে তাদের একজনের যদি মেডিকেল ব্যাকগ্রাউন্ড না হয় তাহলেই বিপত্তি বাঁধার সম্ভাবনা, হবে Malpraxis.

MBBS/ BDS রা রেজিস্টার সার্জন তাদের আলাদা সার্টিফিকেট নিষ্প্রয়োজন, ডাক্তাররা যে কোন ভাবেই হিজামা শিখে ট্রিটমেন্ট শুরু করতে পারবেন)হিজামা করতে প্রচুর পড়াশুনা করা লাগে।

  1. একজন থেরাপিস্ট কে রোগীর হিস্টোরি শুনতে হবে
  2. সাইন-সিম্পটম শুনে রোগ নির্নয় করতে হবে।
  3. রোগের প্যাথোজেনেসিস জানতে হবে।
  4. এনাটমি -ফিজিওলজি-ইন্ডিকেশান-কন্ট্রাইন্ডিকেশান ইত্যাদি মাথায় রেখে ট্রিটমেন্ট প্লান করতে হবে।

কি ভাবছেন? ট্রিটমেন্ট প্ল্যান তো গুগলে আছে মানবদেহের ছবির উপর লাল লাল ফোটা দেয়া রোগের নাম সহ কিংবা নম্বর আকারে?আচ্ছা ধরেন একজন রোগী আসলো থাইরয়েড হরমোনের প্রবলেম। হাইপো/ হাইপার। সে হিজামা করাবে, তার ট্রিটমেন্ট প্লান কি দিবেন?

আপনার সেই গুগল বই তে তো আছে ৪-৫ টা পয়েন্ট। যতদূর মনে পরে, গলায় আর পিঠে পয়েন্ট গুলো। কিন্তু মাথায় যে একটা পয়েন্ট আছে সেটা বলে দেবে কে আপনাকে? মাথায় কেনো, কিসের পয়েন্ট, কি গ্ল্যান্ড, কি রিলিজ হয় তা কি লাইভে/ইউ টিউবে/ গুগলের সেই বই কিংবা আপনার নন মেডিকেল ট্রেইনার বলেছে?আবার ধরেন, রোগী এসে বললো আমার থাইরয়েড হরমোনে প্রবলেম কিন্তু হাইপো নাকি হাইপার জানি না, রিপোর্ট আনিনি। এখন বলেন তো আপনি কিভাবে নির্নয় করবেন তার রোগ কোনটা? শুধুমাত্র কথা বলে কিংবা দেখে? টেস্ট করানো পরের কথা। কি? পারবেন?ধরেন কারো পায়ে অবশ ভাব আছে, তো আপনি কাপ বসিয়ে দিলেন যে জায়গায় অবশ ভাব আছে সেখানে, কিন্তু পায়ের এখানে সাপ্লাই দেয় যে নার্ভ সেটা তো লাম্বার ভার্টিব্রা থেকে আসে। ওখানে ডিস্কের সমস্যার কারনে পায়ের সেনসেশান এ প্রবলেম, এটা কে বলবে?

আর ম্যালপ্র্যাক্সিস নিয়ে নতুন করে কি বলবো। রোগীরা আসেন ডাক্তারদের কাছে কম খরচে অমুক তমুক ছাতার মতো গজিয়ে উঠা হিজামা ক্লিনিক হতে। সুস্থ হন নি। কিন্তু সুন্নতে অগাধ বিশ্বাস। স্কিনে দেখি কি বড় বড় কাটা! স্কার মার্ক!

আর যারা আমাদের কাছে বা অন্য অভিজ্ঞ থেরাপিস্ট এর কাছে যান না, তারা পরে হয়তো বলেন এটা চৌদ্দশ বছর আগের চিকিৎসা, এগুলোতে এখন আর কাজ হয় না।

মানুষকে আপনারা সুন্নতের দাওয়াত দিতে গিয়ে সুন্নাহ বিরোধি বানিয়ে ফেলছেন কিনা একবার তো খোঁজ নিন।আরে ভাই-আপা! হিজামাতে কাটতে হয় না। স্ক্রাচ দিতে হয়। কাটাকুটি খেলে যে রোগীর শরীরে সারাজীবনের জন্য ক্ষত/ দাগ ফেলেছেন, তার জবাব আল্লাহ কে কি দিবেন?

حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عَمَّارٍ، وَرَاشِدُ بْنُ سَعِيدٍ الرَّمْلِيُّ، قَالاَ حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ بْنُ مُسْلِمٍ، حَدَّثَنَا ابْنُ جُرَيْجٍ، عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ “‏ مَنْ تَطَبَّبَ وَلَمْ يُعْلَمْ مِنْهُ طِبٌّ قَبْلَ ذَلِكَ فَهُوَ ضَامِنٌ

‏আবদুল্লাহ বিন আমর ইবনুল আস (রাঃ), থেকে বর্ণিতঃরাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, কোন ব্যক্তি চিকিৎসা বিদ্যা অর্জন না করেই চিকিৎসা করলে সে দায়ী হবে।
(সুনানে ইবনে মাজাহ) [৩৪৬৬](তাহকীক আলবানীঃ হাসান।)

যারা প্রাক্টিস করছেন আপনাদের হিজামার স্ক্রাচ নিয়ে জ্ঞান না থাকলে প্রয়োজনে আমাদের কাছে আসুন, দেখুন – শিখুন। অহেতুক ইগো আর ভুল জ্ঞান দিয়ে বেশীদূর যাওয়া সম্ভব নয়। টাকা দিয়ে কোর্স করতে হবে এমন নয়, যারাই হিজামা প্রাক্টিস করেন যেকোনো পরামর্শ, সহায়তার জন্য আমাদের নক করেছেন আমরা যথাসাধ্য সাহায্য করেছি, ইন শা আল্লাহ করবো।

বাসায় বাসায় গিয়ে যার তার বিছানায় নয়। একটি পরিচ্ছন্ন রুম নিন, গ্লাভস নিন, নতুন কাপ, নতুন ব্লেড নিন, পরিষ্কার গান নিন, রেক্সিনের বেডে ওয়ান টাইম বেড টিস্যু নিন, রোগীকে নির্দিষ্ট ক্লিন গাউন দিন, আপনিও গাউন বা এ্যাপ্রোন – মাস্ক পড়ুন। সার্জিকাল সাইট প্রিপারেশান এর মত স্কিন ক্লিন করুন আয়োডিন সলিউশান দিয়ে। হিজামা করুন প্রপার ওয়ে তে। শেষ হবার আগে কাপ খুলে রোগী ছেড়ে দেবেন না। আপনি জানেন তো হিজামা শেষ হয়েছে কি না কিভাবে বোঝা যায়?

ফেইসবুকে সমাধান নিতে আমাদের গ্রুপঃ HIjama Planet: Cupping and Ruqyah Center

শুধুমাত্র মহিলাদের জন্যঃ Hijama Planet (Sister’s only)চিকিৎসা শাস্ত্র নিয়ে তাই মজা নয় প্লিজ। মানুষের জীবন, মানুষের রোগ, মানুষের আবেগ নিয়ে খেলা নয় প্লিজ।শিখুন। পড়ুন। জ্ঞান বাড়ান।ট্রেনিং নিয়ে হিজামা প্রাক্টিস করুন সুন্নাহ হিসেবে কিন্তু ফিজিশিয়ান বা সার্জন বা মেডিকেল ব্যাকগ্রাউন্ডের না হলে রোগীর রোগের চিকিৎসা হিসেবে হিজামা করবেন না প্লিজ।অন্যথায় সৌদি আরব কিংবা দুবাই এর মতো নন মেডিকেল দের জন্য হিজামা প্রাক্টিস ব্যান হতে সময় লাগবে না।

এদেশের মানুষ সেক্যুলার বেশী, আপনাদের ভুল পদক্ষেপ আর ধর্ম ব্যবসার জন্য যেন এই নববী চিকিৎসার দুর্নাম না হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখবেন।আপনারা আরো আরো হিজামা শিখুন,করুন, সেন্টার দিন এটাই আমার প্রত্যাশা। আমি যখন হিজামা শুরু করি তখন ধারনা ছিলো না মানুষ কিভাবে গ্রহন করবে, কত ইনকাম হবে। মৃত সুন্নাহ এর পুনঃজাগরণ, প্রচার, প্রসারের লক্ষ্যেই শুরু করি। মাসে পাঁচ সাতজন রোগী হত তখন। আর এখন আমাদের ব্রাঞ্চের সংখ্যাই এর চেয়ে বেশি। অর্থ উপার্জনের জন্য তো আমাদের ডেন্টাল ডিগ্রীই কাফি। বিশ্বের সবচেয়ে ব্যয়বহুল চিকিৎসা ডেন্টাল আর একজন ডেন্টাল সার্জনের ইনকাম মাশা আল্লাহ খুব ভাল। আর আমাদের ডেন্টাল ক্লিনিক Tooth Planet দেশের অন্যতম ও সেরা প্রতিষ্ঠানের একটি যেখানে আন্তর্জাতিক মানের কাজ হয়।তাই হিজামা চর্চার আগে নিয়ত পরিবর্তন করুন। আগে শিখুন, তারপর চিকিৎসা দিন নিজের দায়বদ্ধতা থেকে।আর রোগীরা সোচ্চার হন, সজাগ হন। যত্রতত্র ভাবে আর চিকিৎসা সেবা আর নয়। ডাক্তার দেখাতে যেমন ডিগ্রী দেখেন, তেমন হিজামা করাতেও প্রয়োজনে ডিগ্রী যাচাই করুন। “দীর্ঘ এতো বছর মিডল ইস্টে হিজামা করেছি” এটা কোনো ডিগ্রী নয়। অমুকের ক্লিনিকে সহকারী ছিলাম কোনো ডিগ্রী নয়। অমুক কলেজের স্যার হিজামা দেখিয়ে দিয়েছে কোনো ডিগ্রী নয়। তাদের অনুমতি পত্র দেখাতে পারলে ঠিক আছে, যে তারা ওনার স্কিল ও জ্ঞান দেখে হিজামার অনুমতি দিয়েছে। যারা অনুমতি দিয়েছে তাদের স্বীকৃত কোন মেডিকেল ডিগ্রী থাকা বাঞ্ছনীয়।

কাপ দেখে বুঝে নিন নতুন না পূর্বে ব্যবহৃত। ব্যবহৃত কাপ ঘোলা হয়। হিজামায় ব্যবহৃত জিনিষ মাটিতে পুতে ফেলার কঠোর নির্দেশনা আছে হাদিসে। আমরা আমাদের ক্লিনিক Hijama Planet: Cupping & Ruqyah Center এ সর্বদা ডিসপজেবল সামগ্রী ব্যাবহার করি। উপযুক্ত স্টেরিলাইজেশন এর অভাবে আপনার হতে পারে এইচ আইভি/ হেপাটাইটিস সংক্রমণ। পচন ধরতে পারে পায়ে। ভাবছেন বানিয়ে বলছি? সারা দেশ থেকে এই ধরনের তথ্য পাই আমরা। তাই সজাগ হন আজই। ‏

ইসলামে চিকিৎসকের যোগ্যতা ও দায়িত্ব

অনেকেই ইদানীং আরগিউ করছেন যে, ইসলামে হাতুড়ে ডাক্তার বা চিকিৎসক বলতে কিছু নেই। যে কেউ চিকিৎসা দিতে পারে। আসলেই কি তাই?

হিজামার বৈজ্ঞানিক ভিত্তি

অনেকেই অনেকভাবে হিজামা ব্যাখ্যা করেন। কেউ বলেন এটা দুষিত রক্ত বের করে দেয়, কেউ বলেন বিষ রক্ত বের করে ফেলা হয়। কিন্তু আসলে হিজামার রয়েছে কিছু ব্যাসিক সাইন্টিফিক থিওরি, যা হিজামা কিভাবে রোগ ভাল করে তা ব্যাখ্যা করে। হাদিসেও এর কিছু ইঙ্গিত রয়েছে। তবে বিজ্ঞান যত এগিয়ে যাবে তত হিজামাকে আরও ভাল ভাবে জানা যাবে। আরও জানতে নিচের লিংকগুলো দেখুন।

  1. Theories from hadith
  2. Nitric Oxide Theory
  3. Pain-Gate Theory (PGT)
  4. Diffuse Noxious Inhibitory Controls (DNICs)
  5. Reflex Zone Theory (ZRT)
  6. Muscle relaxation
  7. Activation of Immune System Theory (AIST)
  8. Blood Detoxification Theory (BDT)

হিজামা সংক্রান্ত হাদীসসমূহ ও মাসায়েল

وَعَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ – رضي الله عنه – قَالَ: أَوَّلُ مَا كُرِهَتِ الحِجَامَةُ لِلصَّائِمِ; أَنَّ جَعْفَرَ بْنَ أَبِي طَالِبٍ احْتَجَمَ وَهُوَ صَائِمٌ، فَمَرَّ بِهِ النَّبِيُّ – صلى الله عليه وسلم – فَقَالَ: «أَفْطَرَ هَذَانِ»، ثُمَّ رَخَّصَ النَّبِيُّ – صلى الله عليه وسلم – بَعْدُ فِي الحِجَامَةِ لِلصَّائِمِ، وَكَانَ أَنَسٌ يَحْتَجِمُ وَهُوَ صَائِمٌ. رَوَاهُ الدَّارَقُطْنِيُّ وَقَوَّاهُ

আনাস বিন মালিক রদ্বিআল্লহু আনহু তিনি বলেন, প্রথম দিকে সিঙ্গা লাগান মাকরূহ হবার কারণ ছিল, জাফার বিন আবু তালিব সওমের অবস্থায় সিঙ্গা লাগিয়েছিলেন আর নাবী সল্লাল্লহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তার নিকট দিয়ে যাচ্ছিলেন, তিনি বললেন-এরা দুজনেই সওম ভঙ্গ করে ফেলেছে। তারপর তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সওমের অবস্থায় সিঙ্গা লাগানোর ব্যাপারে অবকাশ দিয়েছেন। ফলে আনাস রদ্বিআল্লহু আনহু সায়িম অবস্থায় সিঙ্গা লাগাতেন।

দারাকুৎনী একে কাবি (মজবুত) সনদ হিসেবে সাব্যস্ত করেছেন। সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস নং ৬৬৭ হাদিসের মান: সহিহ হাদিস 

و حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ ابْنِ شِهَابٍ أَنَّ سَعْدَ بْنَ أَبِي وَقَّاصٍ وَعَبْدَ اللهِ بْنَ عُمَرَ كَانَا يَحْتَجِمَانِ وَهُمَا صَائِمَانِ

ইবনু শিহাব (র) থেকে বর্ণিতঃসা’দ ইবনু আবি ওয়াক্কাস ও আবদুল্লাহ্ ইবনু উমার (রা) দু’জনে শিঙ্গা লাগাতেন অথচ তাঁরা রোযাদার। (হাদীসটি ইমাম মালিক (রঃ) একক ভাবে বর্ণনা করেছেন) হাদিসের মানঃ নির্ণীত নয়

চাঁদের সাথে হিজামার সম্পর্ক

ইসলাম এক পূর্ণাঙ্গ, শাশ্বত এবং বিজ্ঞানসম্মত জীবনব্যবস্থার নাম। এর প্রতিটি বিধানের রয়েছে বৈজ্ঞানিক ভিত্তি। মানবতার সর্বশেষ নবী মুহাম্মদ সা: বৈজ্ঞানিক ছিলেন না। তিনি ছিলেন আল্লাহ প্রেরিত রাসূল। তাঁর যুগে বিজ্ঞান-প্রযুক্তি প্রসার লাভও করেনি। তবুও বর্তমানে বিজ্ঞানের চরম উৎকর্ষতার যুগে তাঁর জীবনের প্রতিটি কর্ম ও নির্দেশনা রহস্যময় এক বৈজ্ঞানিক ভিত্তি। বিভিন্ন যুগের বৈজ্ঞানিকরা অনুসন্ধিৎসু দৃষ্টিতে তাঁর নির্দেশিত প্রতিটি কাজ, চিন্তাভাবনা, নিয়মনীতি, আইনকানুনের প্রতি মনোনিবেশ করেছেন সেই মহারহস্য উদঘাটন প্রত্যাশায়। অতলান্ত মহাসাগর রোমান্থন দুঃসাধ্য হলেও ফলদায়ক। অতলান্ত মহাসাগরের মতো বিশাল বিস্তৃত মহানবী সা:-এর বর্ণাঢ্য জীবনের সব দিক ও বিভাগ নিয়ে গবেষণা কোনো একক ব্যক্তির পে সম্ভব নয়। এ জন্যই বৈজ্ঞানিকরা তাঁর বর্ণিল জীবনের এক একটি দিক নিয়ে গবেষণায় ব্রত হয়েছেন। উৎসের সন্ধানে : আবু হুরাইরা রা: থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন : ‘আমার প্রিয়তম বন্ধু আমাকে তিনটি ব্যাপারে বিশেষভাবে অসিয়ত করেছেন : ১. প্রতি মাসে তিন দিন রোজা রাখা, ২. দুই রাকাত সালাতুত্ দুহা আদায় করা এবং ৩. রাতে ঘুমানোর আগেই যেন বিতর নামাজ আদায় করি (বুখারি)। আব্দুল মালেক বিন কুদামাহ বিন মালহান রা: বলেন : ‘রাসূলুল্লাহ সা: আমাদেরকে আইয়ামে বীজ তথা চন্দ্রমাসের ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখে রোজা রাখার নির্দেশ দিতেন’ (আবু দাউদ)। রাসূলুল্লাহ সা: বলেন : ‘প্রতি মাসে তিনটি রোজা একযুগ রোজার সমতুল্য, মনোরম সে দিন তিনটি হলো ১৩, ১৪ ও ১৫’ (নাসায়ী)। ইবনু আব্বাস রা: বলেন : ‘রাসূলুল্লাহ সা: সফর ও মুকিম অবস্থায় কখনো আইয়ামে বীজের রোজা ভঙ্গ করতেন না’ (নাসায়ী)। রাসূল সা: বলেন : ‘কোনো মাসে তিনটি রোজা রাখলে ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখ রাখবে’ (আহমদ)।

এসব হাদিস থেকে প্রমাণ হয়, রাসূল সা: তাঁর প্রিয় সাথীদের আইয়ামে বীজের রোজা রাখার জন্য বিশেষভাবে নির্দেশ দিতেন; কিন্তু এই নির্দেশ আবশ্যকতার ভঙ্গিতে ছিল না বরং তা ছিল নফল তথা অতিরিক্ত আমল হিসেবে। তিনি সাহাবিদের এই রোজা রাখতে বলতেন; কিন্তু তাদের সবাই এ নির্দেশ পালন করতেন না, যা থেকে প্রমাণ হয়, তাঁর এ নির্দেশ নফল হিসেবে ছিল ওয়াজিব হিসেবে নয়।

আইয়ামে বীজের পরিচিতি : আইয়ামে বীজ আরবি দু’টি শব্দের সমন্বয়ে গঠিত। আইয়ামে অর্থ দিবসসমূহ, আর বীজ অর্থ শুভ্র, সাদা, শ্বেত, খাঁটি, নির্ভেজাল…। চন্দ্র মাসের ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখকে আইয়ামে বীজ বলা হয়। ওই তিন দিনে চাঁদ পূর্ণতা লাভ করে, প্রচণ্ড আলো বিকিরণ করে, চাঁদের আলো কানায় কানায় ভরে যায়, জোসনার প্রচণ্ডতায় ওই রাতগুলো শুভ্র ধবধবে ও আলোকিতভাবে দিনের আলোর মতো দৃশ্যমান হয়। এ দৃশ্য সবাই অবলোকন করে, বিশেষত মরুভূমিতে এটি বেশি দৃষ্টিগোচর হয়। আলোকিত ওই রাতগুলোকে দিনের সাথে সম্পৃক্ত করে ‘আইয়ামে বীজ’ নামকরণ করা হয়েছে। উল্লেখ্য, আরবিতে ইয়াওম শব্দ দ্বারা দিন ও রাত উভয়কে অন্তর্ভুক্ত করে। ফাতহুল বারিতে বলা হয়েছে : ‘বীজ বলতে ওই সব রজনীই উদ্দেশ্য, যাতে রাতের প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত চাঁদ দৃশ্যমান হয়।’

আইয়ামে বীজের রোজার বৈজ্ঞানিক দিক : আইয়ামে বীজের রোজার তারিখ রাসূল সা: নির্ধারণ করেছেন চন্দ্র মাসের ১৩, ১৪ ও ১৫। আরবি মাস ২৯ বা ৩০ দিন হয়ে থাকে। মাসের যেকোনো তিন দিন রোজা রাখার নির্দেশ না দিয়ে তিনি কেন ওই তিন দিনকে নির্দিষ্ট করলেন? আমাদের মনে এ ধরনের প্রশ্ন জাগ্রত হওয়া স্বাভাবিক। মূলত আইয়ামে বীজের রোজার মধ্যে লুকায়িত রয়েছে এক মহারহস্য, রয়েছে হিকমাতে নববীয়্যাহর এক চূড়ান্ত বিস্ময়। এ রহস্য জানতে হলে ‘ভূপৃষ্ঠ ও মানবদেহের মধ্যকার সৃষ্টিগত সম্পর্ক’ এবং ‘চাঁদ-ভূপৃষ্ঠ ও মানবদেহের সম্পর্ক’ বিষয়ক দু’টি বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি জানা একান্ত প্রয়োজন।

ভূপৃষ্ঠ ও মানবদেহের মধ্যকার সৃষ্টিগত সম্পর্ক : সৃষ্টিগত দিক থেকে ভূপৃষ্ঠ ও মানবদেহের মধ্যে রয়েছে এক সুদৃঢ় সম্পর্ক। ভূপৃষ্ঠের ৮০ ভাগ তরল পানি (তথা নদী ও সাগর) এবং ২০ ভাগ কঠিন পদার্থের সমন্বয়ে গঠিত। ভূপৃষ্ঠ বিভিন্ন উপাদানে গঠিত, যেমন- ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, সোডিয়াম, লৌহ, নাইট্রিক এসিড, বাইকার্বনেট ইত্যাদি। মানবদেহও এসব উপাদানের সমন্বয়ে গঠিত। এটাই বিজ্ঞানের সর্বশেষ গবেষণালব্ধ ফলাফল। একটি মিনারেল ওয়াটারের বোতল হাতে নিয়ে এর উপকরণগুলোর দিকে দৃষ্টি দিলে দেখা যায়, তা-ও একই উপাদানে গঠিত। এ পানি নলকূপ, কুয়া বা ঝরনার মাধ্যমে উত্তোলন করা হোক অথবা সাগর বা নদী থেকে পরিশোধন করে প্রস্তুত করা হোক। অতএব আমরা পানি পান করলে আমাদের শরীর এসব উপাদানে গঠিত হবে এটাই স্বাভাবিক। একইভাবে আমরা শাকসবজি, ফলমূল বা মাটি থেকে উৎপন্ন অন্যান্য খাদ্যের ওপর অনুসন্ধান চালালে দেখতে পাই, সব কিছু একই উপাদানে গঠিত। যদিও উপকরণের পরিমাণের তারতম্য রয়েছে। এসব খাদ্য-খাবার গ্রহণ করলে আমাদের দেহও এসব উপকরণের সমন্বয়ে গড়ে ওঠে।

মানবদেহ ও মাটির মধ্যে রয়েছে এক দৃঢ় সম্পর্ক। মানুষ মাটি থেকে সৃষ্ট, এ জন্য তার মধ্যে রয়েছে মাটি তথা ভূপৃষ্ঠের উপকরণ। আল্লাহর বাণী: ‘তিনি কর্দম থেকে মানব সৃষ্টির সূচনা করেছেন’ (সূরা আস্ সাজদা: ৭)।

একইভাবে মানুষ সৃষ্টির উপাদানে রয়েছে পানি। আল্লাহ বলেন: ‘এবং তিনিই মানুষকে সৃষ্টি করেছেন পানি থেকে’ (আল-ফুরকান : ৫৪)। তিনি আরো বলেন : ‘আল্লাহ সব জীব সৃষ্টি করেছেন পানি থেকে’ (সূরা আন্ নূর : ৪৫)। অতএব মানুষের মধ্যে মাটি ও পানির উপকরণ বিদ্যমান থাকায় মানুষ এ দু’টির আকর্ষণ ও বিকর্ষণের শিকার।

চাঁদ-মাটি ও চাঁদ-মানুষের মধ্যকার সম্পর্ক : অন্য দৃষ্টিকোণ থেকে চাঁদ ও মাটি এবং চাঁদ ও মানবদেহের মধ্যে রয়েছে এক বিজ্ঞানময় সম্পর্ক। বৈজ্ঞানিকভাবে এ কথা স্বীকৃত যে, চাঁদের নিজস্ব মাধ্যাকর্ষণ শক্তি রয়েছে। এ মাধ্যাকর্ষণ শক্তির প্রভাব পৃথিবীর ওপর স্পষ্টত দৃশ্যমান হয়। এরই ফলে সাগর, নদ-নদীতে জোয়ার-ভাটার সৃষ্টি হয়। মাটি থেকে তৈরি হওয়ার কারণে, ভূপৃষ্ঠে বসবাস করার কারণে এবং মানবদেহে ভূপৃষ্ঠের উপাদান বর্তমান থাকায় মানুষের ওপরও চাঁদের এ মাধ্যাকর্ষণ শক্তির প্রভাব পড়ে।

১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখে ভূপৃষ্ঠ ও মানুষের ওপর চাঁদের প্রভাব : আইয়ামে বীজ তথা চন্দ্র মাসের ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখ চাঁদ পূর্ণতা পায়। এ জন্য এ সময়ে মাটি ও মানুষের ওপর এর প্রভাবও পড়ে সর্বোচ্চ। ফলত ভূপৃষ্ঠ ও মানুষের অভ্যন্তরে এ আকর্ষণের মাত্রাও বৃদ্ধি পায়। ভূভাগে এ আকর্ষণ প্রকাশিত হয় সাগর-নদীতে জোয়ার-ভাটার মাধ্যমে আর মানুষের মধ্যে এটির প্রকাশ ঘটে চঞ্চলতা, আবেগ-উদ্বেগ, গোঁড়ামি, দুঃশ্চিন্তা, অস্থিরতা, মানবিক ও স্নায়ুবিক উত্তেজনা ইত্যাদি বৃদ্ধির মাধ্যমে, যার সর্বশেষ ফলাফল দাঁড়ায় অপরাধপ্রবণতা বৃদ্ধির মাধ্যমে। ইবনে সীনা (৯৮০-১৩৭ খ্রি.) তাঁর ‘আল-কানুন ফীত্-তীব’ গ্রন্থে বলেন : ‘মাসের প্রথম ভাগে শিঙ্গা লাগাতে নিষেধ করা হয়েছে, কারণ এ সময়ে মিক্সার ঠিক মতো প্রভাব বিস্তার করতে পারে না। একইভাবে মাসের শেষ ভাগেও শিঙ্গা ব্যবহার না করতে বলা হয়েছে। কারণ এ সময়ে এর কার্যকরণ মতা হ্রাস পায়; বরং মাসের মধ্যার্ধে এর ব্যবহারের নির্দেশ এসেছে, যাতে চাঁদের আলো ও আকর্ষণ বৃদ্ধির সাথে সাথে মিক্সারের কার্যকরণ মতার পূর্ণতা পায়।’

আইয়ামে বীজের সময়কালে ভূপৃষ্ঠের ওপর এই প্রভাবের প্রমাণ পাওয়া যায় এ দিনগুলোতে নদী-সাগর পাড়ে গেলে। কেননা এ সময়ে জোয়ার ও ভাটা সর্বোচ্চ সীমায় অবস্থান করে এবং পানির তীব্রতা বেড়ে যায়। দেখা যায় অন্য সময়ে জোয়ারে যত পানি থাকে এ সময়ে ভাটাতে সমপরিমাণ পানি থাকে। একইভাবে মানুষের ওপর চাঁদের এ প্রভাবের প্রমাণ পাওয়া যায় ওই দিনগুলোতে আদালত, পুলিশ থানা বা বিচারালয়ে গেলে। দেখা যায়, বড় বড় অপরাধ, হত্যা, চুরি, বিচ্ছেদ, ধর্ষণ ইত্যাদি এ সময়কালে বৃদ্ধি পায়। ‘রোজা ঢালস্বরূপ’ হওয়ায় প্রবৃত্তির যাবতীয় খামখেয়ালিপনা থেকে নিজেকে বিরত রাখা সম্ভব হয়। রাসূলুল্লাহ সা: কর্তৃক আইয়ামে বীজের রোজার অসিয়তের মধ্যে তা-ই নিহিত রয়েছে এক চিরন্তন মুজিজা। চাঁদের পূর্ণতা ও মানবীয় অপরাধপ্রবণতা বৃদ্ধির এ দিনগুলোতে রোজা মানবিক উৎকর্ষতা সাধন, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, বিভিন্ন দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণের এক বিজ্ঞানময় পদ্ধতির বহিঃপ্রকাশ, যা একজন উম্মি নবীর গৃহীত বাস্তবমুখী এক কর্মসূচি।

অতএব মানুষের আত্মিক, মানবিক, পারিবারিক, সামাজিক ও আন্তর্জাতিক জীবনের বিভিন্ন সমস্যা দূরীকরণের েেত্র আইয়ামে বীজের রোজা এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। মূলত ইসলামের প্রতিটি বিধানই বিজ্ঞানসম্মত। আধুনিক বিজ্ঞানের চরম উৎকর্ষতার যুগে এটাই প্রমাণ হয়েছে যে, ইসলামের বিধিবিধান অনুযায়ী জীবনযাপনই মানুষের দৈহিক, আত্মিক, মানসিক ও পারিপার্শ্বিক উৎকর্ষতার একমাত্র গ্যারান্টি। অতএব প্রতিটি মুসলমান তথা গোটা মানবতার উচিত রাসূলুল্লাহ সা: প্রদর্শিত জীবনপদ্ধতি অনুযায়ী জীবন পরিচালনা করা।

তবেই আমরা সেই মানুষের দলভুক্ত হতে পারব, যাদের সম্পর্কে আল্লাহর নবী করীম সা: বলেন : ‘ঈমানের দিক থেকে ওই সব লোক সর্বাধিক আশ্চর্যজনক, যারা আমার পরে আগমন করবে, তারা আমার প্রতি ঈমান আনবে অথচ তারা আমাকে দেখেনি। তারা আমার সত্যতার প্রমাণ দিবে অথচ তারা আমাকে দেখেনি; তারা আমার ভাই’ (তাবরানি)।১৯৭৮ থেকে ১৯৮২ এর মধ্যে কয়েকজন খ্যাতনামা বিজ্ঞানী গবেষণা মাধ্যমে সিদ্ধান্থে আসেন, পূর্ণচন্দ্র শুধুমাত্র মানুষের আবেগ বা চঞ্চলতাই বৃদ্ধি করে না, মানুয়ের অপরাধ প্রবণতাকেও জাগিয়ে দেয়। তাঁদের আরও বক্তব্য যে, এ সময়ে চাঁদের আলো এবং আকর্ষণ মানুষের শারীরিক ও মানসিক শক্তির অবনতি, বিভিন্ন প্রকার রোগ, হত্যা এবং আত্বহত্যা করার মানসিকতার সহায়ক হয়ে উঠে।১৯৬৩ সালে লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয় ফরেনসিক সায়েন্স – ভেষজ বিজ্ঞান, রোগনিদান তত্ত্ব ও বিষ বিজ্ঞান সম্বন্ধে একটি আন্তর্জাতিক আলোচনা চক্রে পৃথিরীর খ্যাতনামা বিজ্ঞানীরা অংশ গ্রহণ করেন।সেখানে ম্যাসাচুসেটস্‌ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানী ডঃ জ্যানিনো একটি গবেষণা পত্র উপস্থাপিত করে বলেন, সাহিত্য এবং প্রাচীন জনশ্রুতিতে চাঁদের প্রভাবে মানুষের সামাজিক মতিভ্রম বা উম্মত্ততা-কুসংস্কার বা উদ্ভট কল্পনা নয়, সত্যই চাঁদ মানুষকে প্রভাবিত করে।ডঃ জ্যানিনো চাঁদের প্রভাব সম্বন্ধে বহু যুক্তিপূর্ণ বক্তব্যের উপসংহারে বলেন, শারীর বৃত্তীয় পরীক্ষার দ্বারা প্রমাণিত হয়েছে যে, পূর্ণিমা ও অমাবস্যায় মানুষের দেহের তড়িৎ বিভব বৃদ্ধি পায়।
ল্যাটিন ভাষায় চাঁদকে লুনা বলে।এই লুনাই উন্মাদনা সৃষ্টির কারক বলে উন্মাদ কথার ইংরেজী লুনাটিক শব্দের উৎপত্তি মহাকবি মিল্টন তার ‘প্যারাডাইস লষ্ট’ মহাকাব্যে মানুয়ের মস্তিষ্কের সঙ্গে চাঁদের সংযোগ কথা উল্লেখ করেছেন।মানুষ ও পশুপাখির ওপর চাঁদের প্রভাব জনিত গবেষণাঃ

  1. The lunar cycle: effects on human and animal behavior and physiology
  2. Lunar Effect (Wiki)
  3. Does the moon affect our mood or actions?
  4. 6 WAYS THE MOON IS AFFECTING YOUR BODY
  5. 7 Ways The Full Moon Supposedly Affects The Human Body
  6. A study on the physical fitness index, heart rate and blood pressure in different phases of lunar month on male human
  7. HOW THE MOON AFFECTS US
  8. FIBROMYALGIA SYMPTOMS AFFECTED BY MOON PHASES?
  9. Why does arthritis pain increase during a full moon?
  10. Impact of gravitational interaction between the Moon and the Earth on the occurrence of episodes of cardiogenic pulmonary edema in the field.

বিভিন্ন রোগে ও বিভিন্ন অর্গ্যান এর বিভিন্ন সমস্যায় হিজামা কিভাবে কাজ করে?

১। কার্ডিয়াক প্রবলেমহিজামার জন্য যখন স্ক্র্যাচ করা হয় তখন স্কিন এর নিচের বেসমেন্ট মেমব্রেনে অবস্থিত ছোট ছোট রক্তনালীগুলোতে ইনজুরি হয়। আর এই ইনজুরি থেকেই তৈরি হয় নাইট্রিক অক্সাইড।
বিস্তাারিত মেকানিজম জানতে ক্লিক করুন এখানে।Nitric oxide has gotten the most attention due to its cardiovascular benefits. Alfred Nobel, the founder of the Nobel Prize, was prescribed nitroglycerin over 100 years ago by his doctor to help with his heart problems. He was skeptical, knowing nitroglycerin was used in dynamite, but this chemical helped with his heart condition. Little did he know nitroglycerin acts by releasing nitric oxide which relaxes narrowed blood vessels, increasing oxygen and blood flow.The interior surface (endothelium) of your arteries produce nitric oxide. When plaque builds up in your arteries, called atherosclerosis, you reduce your capacity to produce nitric oxide, which is why physicians prescribe nitroglycerin for heart and stroke patients.

২। ক্যান্সার

বিস্তারিত জানতেঃ

  1. Nitric oxide and cancer: a review
  2. The Potential Role of Nitric Oxide in Halting Cancer Progression Through Chemoprevention
  3. কিডনি ডিজিজ
    There is increasing evidence that nitric oxide (NO) is one of the most important paracrine modulators and mediators in the control of renal functions, such as overall and regional renal blood flow (RBF), renal autoregulation, glomerular filtration, renin secretion and salt excretion. NO also plays an important role in the pathogenesis of several renal disease states, such as diabetic nephropathy, inflammatory glomerular disease, acute renal failure in septic shock, chronic renal failure and nephrotoxicity of drugs, conveying both beneficial effects via its hemodynamic functions and detrimental effects via its cytotoxicity when produced in large amounts by inducible nitric oxide synthase (iNOS). The extensive literature on these pathophysiological functions of NO will not be covered here, and the reader is referred to the pertinent chapters (Chaps. 18,.21, 22, 23) for discussion. In the kidney an unusually large diversity of cells of different types is integrated in a delfuate’ and complex architecture, forming various types of functional units. The complexity of the spatial arrangement of cells in these functional units, fmrexample in the glomerulus and the juxtaglomerular apparatus (JGA), is not only a crucial prerequisite for proper functioning but also a serious obstacle te> the analysis of these functions. This problem also extends to the analysis of the intrarenal functions of NO, and much of the interpretation of data rests on assumptions made as to both the site of formation and the target of NO in each particular experiment. For this reason, a brief survey of the distribution of NOS isoforms in the kidney is given first. For more extensive information, the reader is referred to recent reviews (BACHMANN and MUNDEL 1994; BACHMANN 1997; KONE and BAYLIS 1997; STAR 1997).
  4. The Role of Nitric Oxide in Kidney Function
  5. Nitric oxide status in patients with chronic kidney disease
  6. Arginine Keeps Kidneys in the Pink
  7. Role of L-Arginine in the Pathogenesis and Treatment of Renal Disease
  8. The role of Nitric Oxide in Hypertension and Renal disease progression
  9. পেশীর ব্যাথা
  10. মাইগ্রেন
  11. যে কোন ব্যাকটেরিয়াল, ভাইরাল বা ফাংগাল ইনফেকশান
  12. অটোইম্মিউন ডিজিজ
  13. নিউরলজিক্যাল প্রব্লেম
  14. সাইকোলজিক্যাল প্রব্লেম
  15. যৌন সমস্যা

হিজামার আগে ও পরে যে সকল বিষয়গুলো জানা জরুরী

  1. খালি পেটে হিজামা করা উত্তম।
  2. হিজামার পূর্বে গোসল করে নেয়া উত্তম।
  3. সম্ভব হলে সুন্নাহ তারিখ বা বারে হিজামা করানো উত্তম, তবে প্রয়োজনে হিজামা যে কোন সময়ে করা যায়।
  4. সূর্যোদয়ের পর থেকে সূর্যাস্তের পূর্বে হিজামা করা উত্তম।
  5. যে সকল ঔষধ বা রোগে রক্ত জমাট বাঁধতে দেরী হয় বা জমাট বাঁধে না বা অন্যান্য জটিল রোগাক্রান্তদের ক্ষেত্রে অভিজ্ঞ ডাক্তার এর পরামর্শ ছাড়া হিজামা করা নিষেধ।
  6. হিজামার আগে ও পরে ২৪ ঘন্টা যৌন মিলন না করা উচিৎ।
  7. হিজামার পরের ২৪ ঘন্টা কঠোর পরিশ্রম থেকে বিরত থাকা উচিৎ।
  8. আপনি কি কি ঔষধ খাচ্ছেন তা ডাক্তার বা থেরাপিস্টকে এ্যাপয়েন্টমেন্ট নেওয়ার সময়ই জানিয়ে দেবেন।
  9. আপনি যদি কোন সংক্রামক ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে থাকেন তবে তা হিজামার পূর্বেই ডাক্তার বা থেরাপিস্টকে জানাবেন।
  10. যে সকল রোগে রক্ত জমাট বাঁধে না সে সকল রোগে আক্রান্তরা অবশ্যই ডাক্তার বা থেয়ারাপিস্টকে জানাবেন।
  11. আপনার যদি কোন খাবারে এ্যালার্জি থাকে তবে হিজামার পরে ২৪ ঘন্টা এমন খাবার খাওয়া থেকে বিরত থাকবেন।
  12. যারা অন্তঃসত্ত্বা তারা জীবনের ঝুঁকি না থাকলে হিজামা করা থেকে বিরত থাকবেন। কারন হিজামা এ্যাবোরশান এর কারন হতে পারে।

যে সকল খাবার হিজামার ফলাফলকে ত্বরান্বিত করে

হিজামার হিলিং মেকানিজম এর কয়েকটির মধ্যে একটি হচ্ছে এই যে হিজামার স্ক্র্যাচ এর পর ইনফ্ল্যামেটরি প্রসেস শরীরে নাইট্রিক অক্সাইড প্রোডাকশান করে। (বিস্তারিত) স্বাভাবিক ভাবেই হিজামার ফলে তৈরি হওয়া এই নাইট্রিক অক্সাইড শরীরকে একটি হাইপার বুস্ট দিতে পারে মাত্র, এই নাইট্রিক অক্সাইড সারা জীবন শরীরে থেকে যাবে না। ইনফ্ল্যামেটরি প্রসেস সর্বোচ্চ ১ থেকে ৩ দিন চলতে পারে, শুধু এই ইনফ্ল্যামেটরি প্রসেস চলা অবস্থায়ই নাইট্রিক অক্সাইড প্রডিউস হবে। আর স্বাভাবিক শরিরবৃত্তীয় প্রক্রিয়ায় এই নাইট্রিক অক্সাইডের বায়োএভেইলিবিলিটি কমতে থাকবে। আমি বলছি শুধুমাত্র বুস্টেড হাই লেভেল নাইট্রিক অক্সাইডের কথা (এটা নির্ভর করে লিভার ও ইন্টেসটাইন এর ওপর source)। শরীরের স্বাভাবিক নাইট্রিক অক্সাইডের প্রডাকশান স্বাভাবিক ভাবেই চলবে।

শরীরে নাইট্রিক অক্সাইড প্রস্তুতের দুটি পথ আছে, একটি NOS অর্থাৎ নাইট্রিক অক্সাইড সিনথেটেজ এনজাইম তৈরি প্রক্রিয়া ঠিক থাকে। এই প্রক্রিয়া ঠিক রাখতে আপনাকে দুটি কাজ করতে হবে নিয়মিত, করতে হবে মডারেট ফিজিক্যাল এক্সারসাইজ ও খেতে হবে হাইলি এন্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ খাবার। যা সবসময় সম্ভব নাও হতে পারে।দ্বিতীয়টি নাইট্রেট- নাইট্রেট- নাইট্রিক অক্সাইড পাথওয়ে, এটিতে আপনাকে খেতে হবে নাইট্রেট সমৃদ্ধ খাবার যা আপনার জন্য খুবই সহজ। নীচে এই নাইট্রেট সমৃদ্ধ খাবারের কিছু লিস্ট দিলাম। মনে রাখবেন বেশি নাইট্রিক অক্সাইড মানেই ব্লাড পেশার নরমাল, হাইলি একটিভ সেক্স লাইফ, ব্লাড ভেসেলের স্টিকিনেস কমে যাবে ফলে স্ট্রোক ও হার্টে ব্লকের ঝুঁকি কমে যাবে, চিন্তাশক্তি বাড়বে, ঘুমের গভীরতা বাড়বে। মোট কথা হিজামাতে যে সকল সুবিধা পাবেন সেগুলোই একটু লো স্কেলে পেতে থাকবেন।

বিটঃ বিট একটি নাইট্রেট সমৃদ্ধ খাবার, যা আমাদের নাইট্রিক অক্সাইডে কনভার্ট করতে পারে।৩৮ জন পূরণবয়স্কক মনুষের ওপর চালানো এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, বিট রুট এর জুস এর সাপ্লিমেন্ট খাওয়ার ৪৫ মিনিট পরেই নিঃশ্বাসে নাইট্রিক অক্সাইডের পরিমান ২১% বেড়ে গেছে। (Source)Similarly, another study showed that drinking 3.4 ounces (100 ml) of beetroot juice significantly increased nitric oxide levels in both men and women (Source).Thanks to their rich content of dietary nitrates, beets have been linked to a number of health benefits, including improved cognitive function, enhanced athletic performance and lower blood pressure levels (Source, Source, Source).

রসুনঃ রসুন নাইট্রিক অক্সাইড সিনথেটেজ এনজাইমকে একটিভেট করার মাধ্যমে এ্যামাইনো এসিড এল-আরজিনিন থেকে নাইট্রিক অক্সাইডে পরিবর্তনে সাহায্য করে।(Source)একটি সমীক্ষায় দেখা গেছে রসুন এর নির্যাস প্রয়োগের এক ঘন্টা পরে রক্তে নাইট্রিক অক্সাইডের পরিমান ৪০% বেড়ে গেছে। (Source)Another test-tube study found that aged garlic extract also helped maximize the amount of nitric oxide that can be absorbed by the body (Source).Both human and animal studies indicate that garlic’s ability to increase nitric oxide levels may have a beneficial effect on health and can help lower blood pressure and improve exercise tolerance (Source, Source).

গোশতঃ মুরগী, গরু, মহিষ, ছাগল সহ সকল গোশত আর সামুদ্রিক মাছ কোএনজাইম Q10, or CoQ10 এ সমৃদ্ধ —এই কো এনজাইমগুলো শরীরে নাইট্রিক অক্সাইড সংরক্ষন করে রাখতে পারে। (Source).In fact, it’s estimated that the average diet contains between 3–6 mg of CoQ10, with meat and poultry supplying about 64% of the total intake (Source, Source).Organ meats, fatty fish and muscle meats like beef and chicken contain the highest concentration of CoQ10.সমীক্ষায় দেখা গেছে পর্যাপ্ত CoQQ10 শুধুমাত্র নাইট্রিক অক্সাইড সংরক্ষন করেই রাখে না বরং আমাদের এ্যাথলেটিক পারফরমেন্স বাড়ায়, মাইগ্রেন তৈরি হতে বাঁধা দেয় এবং আমাদের হৃদযন্ত্রের সুরক্ষা করে। (Source, Source, Source)

ডার্ক চকলেটঃ Dark chocolate is loaded with flavanols — naturally occurring compounds that boast an extensive list of powerful health benefits.In particular, research shows that the flavanols found in cocoa can help establish optimal levels of nitric oxide in your body to promote heart health and protect cells against oxidative damage (Source).

One 15-day study in 16 people showed that consuming 30 grams of dark chocolate daily led to significant increases in nitric oxide levels in the blood.What’s more, participants experienced decreases in both systolic and diastolic blood pressure levels — the top and bottom number of the blood pressure reading (Source).Because of its rich content of nitric-oxide-boosting flavanols, dark chocolate has been associated with improved blood flow, enhanced brain function and a lower risk of heart disease, too (Source, Source, Source).

শাকঃ পালংশাক, সেলেরি, বাঁধাকপি, লেটুস, মূলা নাইট্রেট এ পরিপূর্ণ, যা শরীরে নাইট্রিক অক্সাইডে রুপান্তরিত হয়। (Source).According to one review, regular consumption of nitrate-rich foods like green leafy vegetables can help maintain sufficient levels of nitric oxide in the blood and tissues (Source).One study even showed that eating a nitrate-rich meal containing spinach increased salivary nitrate levels eightfold and significantly decreased systolic blood pressure (the top number) (Source).Other research has found that consuming high-nitrate leafy greens may also be associated with a reduced risk of heart disease and cognitive decline (Source, Source).

ভিটামিন সি যুক্ত ফলঃসাইট্রাস ফল যেমন কমলা, লেবু, আঙ্গুর ভিটামিন সি তে পরিপূর্ণ,ভিটামিন সি একটি খুব গুরুত্বপূর্ণ ওয়াটার সলিউবল ভিটামিন যার স্বাস্থ্যের ওপর বিশেষ ভুমিকা আছে। (Source).ভিটামিন সি বায়োএভেইলিবিলিটি ও এ্যাবসর্বশনের ক্ষমতা বাড়িয়ে শরীরে নাইট্রিক অক্সাইডের লেভেল বাড়ায়। (Source).রিসার্চে দেখা যায় যে ভিতামিন সি নাইট্রিক অক্সাইড সিনথেটেজ এনজাইমের পরিমানও বাড়াতে পারে। এটা নাইট্রিক অক্সাইড তৈরির জন্য একটি প্রয়জনীয় উপাদান। (Source, Source).

Studies indicate that citrus fruit consumption may be linked to decreased blood pressure, improved brain function and a lower risk of heart disease — all of which may be due in part to their ability to boost nitric oxide levels (Source, Source, Source).

আনার বা ডালিমঃ আনার এর মধ্যে আছে প্রচুর এন্টি অক্সিডেন্ট যা আপনার কোষকে ক্ষতি থেকে বাঁচায় আর নাইট্রিক অক্সাইড সংরক্ষন করে। One test-tube study showed that pomegranate juice was effective in protecting nitric oxide from oxidative damage while also increasing its activity (Source).Another animal study found that both pomegranate juice and pomegranate fruit extract were able to increase levels of nitric oxide synthase and boost the concentration of nitrates in the blood Source).Human and animal studies have found that antioxidant-rich pomegranate can improve blood flow, which may be especially beneficial in treating conditions like high blood pressure and erectile dysfunction (Source, Source).

বাদাম ও বিভিন্ন শষ্যের বীজঃবাদাম ও বিভিন্ন শষ্যের বীজ আরজিনিন সমৃদ্ধ, এটা একটি এ্যামাইনো এসিড যেটা নাইট্রিক অক্সাইড তৈরি করে।Some research suggests that including arginine from foods like nuts and seeds in your diet can help increase nitric oxide levels in your body.

For example, one study in 2,771 people showed that a higher intake of arginine-rich foods was associated with higher levels of nitric oxide in the blood (Source).Another small study found that supplementing with arginine increased levels of nitric oxide after just two weeks (Source).Thanks to their arginine content and stellar nutrient profile, regularly eating nuts and seeds has been associated with lower blood pressure, improved cognition and increased endurance (Source, Source, Source, Source).

তরমুজঃতরমুজ হচ্ছে সাইট্রুলিন এর সর্বোত্তম সোর্স, এটা একটা এ্যামাইনো এসিড যেটা আরজিনিন এ কনভার্ট হয়, আর আরজিনিন থেকে তৈরি হয় নাইট্রিক অক্সাইড।One small study found that citrulline supplements helped stimulate nitric oxide synthesis after just a few hours but noted that it may take longer to see positive effects on health (Source).Meanwhile, another study in eight men showed that drinking 10 ounces (300 ml) of watermelon juice for two weeks led to significant improvements in nitric oxide bioavailability (Source).

Recent research suggests that upping your intake of watermelon not only enhances nitric oxide levels but can also improve exercise performance, decrease blood pressure and boost blood flow (Source).

কতদিন পরপর হিজামা করা যায়?

হিজামার জন্য যে আচড় বা স্ক্র্যাচ দেয়া হয়, সেটা যদি ঠিক ভাবে হয় তবে তা প্রাইমারি হিলিং মেকানিজম অর্থাৎ ২৪ ঘন্টার মধ্যে হিল (heal) হয়ে যাবে। তাই প্রয়োজনে ২৪ ঘন্টা পরই একই স্থানে হিজামা করা যাবে।

সমস্যার গভীরতা অনুযায়ী আমরা বিভিন্ন ইন্টারভেলে হিজামা করতে বলি। কারও ৭ দিন, কারও ১৫ দিন আবার কারও বা মাসে একবার।

তবে সুস্থ মানুষের জন্য বছরে একবার, মতান্তরে দুই বা তিনবার হিজামা করা ভাল, এটা রোগের প্রতিষেধক (Prophylaxis) হিসেবে কাজ করে।

বাংলাদেশের সর্বাধুনিক এবং সর্ববৃহত হিজামা ক্লিনিক হিজামা প্ল্যানেটঃ কাপিং ও রুকইয়াহ সেন্টারে স্বল্প মূল্যে হিজামা করার সুযোগ

স্পেশাল হিজরী নববর্ষ অফার। এখন থেকে প্রতিমাসে দুই দিন চলবে।

  • স্পেশাল_১ঃ
    • হিজামা সেশান মাত্র ২০০০ টাকায়।১। সর্বোচ্চ ১৫ টি পয়েন্টে।
    • সকাল ৯ টা থেকে বিকাল ৫ টা পর্যন্ত।
    • প্রথম দশ জন।
    • শুধুমাত্র প্রতি হিজরী মাসের প্রথম ও দ্বিতীয় রবিবার।
    • অফারের কথা এ্যাপয়েন্টমেন্ট এর সময় উল্লেখ করতে হবে।
    • এ্যাপয়েন্টমেন্ট এর সময় পেমেন্ট এ্যাডভান্স করতে হবে।
  • স্পেশাল_২ঃ
    • হিজামা সেশান মাত্র ১৫০০ টাকায়।
    • শুধু পিঠের নির্দিষ্ট ১০ টি পয়েন্টে।
    • সকাল ৯ টা থেকে বিকাল ৫ টা পর্যন্ত।
    • প্রথম দশ জন।
    • শুধুমাত্র প্রতি হিজরী মাসের প্রথম ও দ্বিতীয় রবিবার।
    • অফারের কথা এ্যাপয়েন্টমেন্ট এর সময় উল্লেখ করতে হবে।
    • এ্যাপয়েন্টমেন্ট এর সময় পেমেন্ট এ্যাডভান্স করতে হবে।

এ্যাপয়েন্টমেন্ট করতে ফোন করুনঃ

  • +88.0161.2877464 (Dhanmondi)
  • +88.01610.445262 (Banani)
  • +88.01841.445262 (Chittagong)
  • +88.0184.2877464 (Bogra)
  • +88.01842.787924 (Jhalokati/ Barisal)

আমাদের ব্রাঞ্চসমূহের ঠিকানা দেখতে এখানে ক্লিক করুন।