ইসলাম এক পূর্ণাঙ্গ, শাশ্বত এবং বিজ্ঞানসম্মত জীবনব্যবস্থার নাম। এর প্রতিটি বিধানের রয়েছে বৈজ্ঞানিক ভিত্তি। মানবতার সর্বশেষ নবী মুহাম্মদ সা: বৈজ্ঞানিক ছিলেন না। তিনি ছিলেন আল্লাহ প্রেরিত রাসূল। তাঁর যুগে বিজ্ঞান-প্রযুক্তি প্রসার লাভও করেনি। তবুও বর্তমানে বিজ্ঞানের চরম উৎকর্ষতার যুগে তাঁর জীবনের প্রতিটি কর্ম ও নির্দেশনা রহস্যময় এক বৈজ্ঞানিক ভিত্তি। বিভিন্ন যুগের বৈজ্ঞানিকরা অনুসন্ধিৎসু দৃষ্টিতে তাঁর নির্দেশিত প্রতিটি কাজ, চিন্তাভাবনা, নিয়মনীতি, আইনকানুনের প্রতি মনোনিবেশ করেছেন সেই মহারহস্য উদঘাটন প্রত্যাশায়। অতলান্ত মহাসাগর রোমান্থন দুঃসাধ্য হলেও ফলদায়ক। অতলান্ত মহাসাগরের মতো বিশাল বিস্তৃত মহানবী সা:-এর বর্ণাঢ্য জীবনের সব দিক ও বিভাগ নিয়ে গবেষণা কোনো একক ব্যক্তির পে সম্ভব নয়। এ জন্যই বৈজ্ঞানিকরা তাঁর বর্ণিল জীবনের এক একটি দিক নিয়ে গবেষণায় ব্রত হয়েছেন। উৎসের সন্ধানে : আবু হুরাইরা রা: থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন : ‘আমার প্রিয়তম বন্ধু আমাকে তিনটি ব্যাপারে বিশেষভাবে অসিয়ত করেছেন : ১. প্রতি মাসে তিন দিন রোজা রাখা, ২. দুই রাকাত সালাতুত্ দুহা আদায় করা এবং ৩. রাতে ঘুমানোর আগেই যেন বিতর নামাজ আদায় করি (বুখারি)। আব্দুল মালেক বিন কুদামাহ বিন মালহান রা: বলেন : ‘রাসূলুল্লাহ সা: আমাদেরকে আইয়ামে বীজ তথা চন্দ্রমাসের ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখে রোজা রাখার নির্দেশ দিতেন’ (আবু দাউদ)। রাসূলুল্লাহ সা: বলেন : ‘প্রতি মাসে তিনটি রোজা একযুগ রোজার সমতুল্য, মনোরম সে দিন তিনটি হলো ১৩, ১৪ ও ১৫’ (নাসায়ী)। ইবনু আব্বাস রা: বলেন : ‘রাসূলুল্লাহ সা: সফর ও মুকিম অবস্থায় কখনো আইয়ামে বীজের রোজা ভঙ্গ করতেন না’ (নাসায়ী)। রাসূল সা: বলেন : ‘কোনো মাসে তিনটি রোজা রাখলে ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখ রাখবে’ (আহমদ)।

এসব হাদিস থেকে প্রমাণ হয়, রাসূল সা: তাঁর প্রিয় সাথীদের আইয়ামে বীজের রোজা রাখার জন্য বিশেষভাবে নির্দেশ দিতেন; কিন্তু এই নির্দেশ আবশ্যকতার ভঙ্গিতে ছিল না বরং তা ছিল নফল তথা অতিরিক্ত আমল হিসেবে। তিনি সাহাবিদের এই রোজা রাখতে বলতেন; কিন্তু তাদের সবাই এ নির্দেশ পালন করতেন না, যা থেকে প্রমাণ হয়, তাঁর এ নির্দেশ নফল হিসেবে ছিল ওয়াজিব হিসেবে নয়।

আইয়ামে বীজের পরিচিতি : আইয়ামে বীজ আরবি দু’টি শব্দের সমন্বয়ে গঠিত। আইয়ামে অর্থ দিবসসমূহ, আর বীজ অর্থ শুভ্র, সাদা, শ্বেত, খাঁটি, নির্ভেজাল...। চন্দ্র মাসের ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখকে আইয়ামে বীজ বলা হয়। ওই তিন দিনে চাঁদ পূর্ণতা লাভ করে, প্রচণ্ড আলো বিকিরণ করে, চাঁদের আলো কানায় কানায় ভরে যায়, জোসনার প্রচণ্ডতায় ওই রাতগুলো শুভ্র ধবধবে ও আলোকিতভাবে দিনের আলোর মতো দৃশ্যমান হয়। এ দৃশ্য সবাই অবলোকন করে, বিশেষত মরুভূমিতে এটি বেশি দৃষ্টিগোচর হয়। আলোকিত ওই রাতগুলোকে দিনের সাথে সম্পৃক্ত করে ‘আইয়ামে বীজ’ নামকরণ করা হয়েছে। উল্লেখ্য, আরবিতে ইয়াওম শব্দ দ্বারা দিন ও রাত উভয়কে অন্তর্ভুক্ত করে। ফাতহুল বারিতে বলা হয়েছে : ‘বীজ বলতে ওই সব রজনীই উদ্দেশ্য, যাতে রাতের প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত চাঁদ দৃশ্যমান হয়।’

আইয়ামে বীজের রোজার বৈজ্ঞানিক দিক : আইয়ামে বীজের রোজার তারিখ রাসূল সা: নির্ধারণ করেছেন চন্দ্র মাসের ১৩, ১৪ ও ১৫। আরবি মাস ২৯ বা ৩০ দিন হয়ে থাকে। মাসের যেকোনো তিন দিন রোজা রাখার নির্দেশ না দিয়ে তিনি কেন ওই তিন দিনকে নির্দিষ্ট করলেন? আমাদের মনে এ ধরনের প্রশ্ন জাগ্রত হওয়া স্বাভাবিক। মূলত আইয়ামে বীজের রোজার মধ্যে লুকায়িত রয়েছে এক মহারহস্য, রয়েছে হিকমাতে নববীয়্যাহর এক চূড়ান্ত বিস্ময়। এ রহস্য জানতে হলে ‘ভূপৃষ্ঠ ও মানবদেহের মধ্যকার সৃষ্টিগত সম্পর্ক’ এবং ‘চাঁদ-ভূপৃষ্ঠ ও মানবদেহের সম্পর্ক’ বিষয়ক দু’টি বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি জানা একান্ত প্রয়োজন।

ভূপৃষ্ঠ ও মানবদেহের মধ্যকার সৃষ্টিগত সম্পর্ক : সৃষ্টিগত দিক থেকে ভূপৃষ্ঠ ও মানবদেহের মধ্যে রয়েছে এক সুদৃঢ় সম্পর্ক। ভূপৃষ্ঠের ৮০ ভাগ তরল পানি (তথা নদী ও সাগর) এবং ২০ ভাগ কঠিন পদার্থের সমন্বয়ে গঠিত। ভূপৃষ্ঠ বিভিন্ন উপাদানে গঠিত, যেমন- ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, সোডিয়াম, লৌহ, নাইট্রিক এসিড, বাইকার্বনেট ইত্যাদি। মানবদেহও এসব উপাদানের সমন্বয়ে গঠিত। এটাই বিজ্ঞানের সর্বশেষ গবেষণালব্ধ ফলাফল। একটি মিনারেল ওয়াটারের বোতল হাতে নিয়ে এর উপকরণগুলোর দিকে দৃষ্টি দিলে দেখা যায়, তা-ও একই উপাদানে গঠিত। এ পানি নলকূপ, কুয়া বা ঝরনার মাধ্যমে উত্তোলন করা হোক অথবা সাগর বা নদী থেকে পরিশোধন করে প্রস্তুত করা হোক। অতএব আমরা পানি পান করলে আমাদের শরীর এসব উপাদানে গঠিত হবে এটাই স্বাভাবিক। একইভাবে আমরা শাকসবজি, ফলমূল বা মাটি থেকে উৎপন্ন অন্যান্য খাদ্যের ওপর অনুসন্ধান চালালে দেখতে পাই, সব কিছু একই উপাদানে গঠিত। যদিও উপকরণের পরিমাণের তারতম্য রয়েছে। এসব খাদ্য-খাবার গ্রহণ করলে আমাদের দেহও এসব উপকরণের সমন্বয়ে গড়ে ওঠে।

মানবদেহ ও মাটির মধ্যে রয়েছে এক দৃঢ় সম্পর্ক। মানুষ মাটি থেকে সৃষ্ট, এ জন্য তার মধ্যে রয়েছে মাটি তথা ভূপৃষ্ঠের উপকরণ। আল্লাহর বাণী: ‘তিনি কর্দম থেকে মানব সৃষ্টির সূচনা করেছেন’ (সূরা আস্ সাজদা: ৭)।

একইভাবে মানুষ সৃষ্টির উপাদানে রয়েছে পানি। আল্লাহ বলেন: ‘এবং তিনিই মানুষকে সৃষ্টি করেছেন পানি থেকে’ (আল-ফুরকান : ৫৪)। তিনি আরো বলেন : ‘আল্লাহ সব জীব সৃষ্টি করেছেন পানি থেকে’ (সূরা আন্ নূর : ৪৫)। অতএব মানুষের মধ্যে মাটি ও পানির উপকরণ বিদ্যমান থাকায় মানুষ এ দু’টির আকর্ষণ ও বিকর্ষণের শিকার।

চাঁদ-মাটি ও চাঁদ-মানুষের মধ্যকার সম্পর্ক : অন্য দৃষ্টিকোণ থেকে চাঁদ ও মাটি এবং চাঁদ ও মানবদেহের মধ্যে রয়েছে এক বিজ্ঞানময় সম্পর্ক। বৈজ্ঞানিকভাবে এ কথা স্বীকৃত যে, চাঁদের নিজস্ব মাধ্যাকর্ষণ শক্তি রয়েছে। এ মাধ্যাকর্ষণ শক্তির প্রভাব পৃথিবীর ওপর স্পষ্টত দৃশ্যমান হয়। এরই ফলে সাগর, নদ-নদীতে জোয়ার-ভাটার সৃষ্টি হয়। মাটি থেকে তৈরি হওয়ার কারণে, ভূপৃষ্ঠে বসবাস করার কারণে এবং মানবদেহে ভূপৃষ্ঠের উপাদান বর্তমান থাকায় মানুষের ওপরও চাঁদের এ মাধ্যাকর্ষণ শক্তির প্রভাব পড়ে।

১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখে ভূপৃষ্ঠ ও মানুষের ওপর চাঁদের প্রভাব : আইয়ামে বীজ তথা চন্দ্র মাসের ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখ চাঁদ পূর্ণতা পায়। এ জন্য এ সময়ে মাটি ও মানুষের ওপর এর প্রভাবও পড়ে সর্বোচ্চ। ফলত ভূপৃষ্ঠ ও মানুষের অভ্যন্তরে এ আকর্ষণের মাত্রাও বৃদ্ধি পায়। ভূভাগে এ আকর্ষণ প্রকাশিত হয় সাগর-নদীতে জোয়ার-ভাটার মাধ্যমে আর মানুষের মধ্যে এটির প্রকাশ ঘটে চঞ্চলতা, আবেগ-উদ্বেগ, গোঁড়ামি, দুঃশ্চিন্তা, অস্থিরতা, মানবিক ও স্নায়ুবিক উত্তেজনা ইত্যাদি বৃদ্ধির মাধ্যমে, যার সর্বশেষ ফলাফল দাঁড়ায় অপরাধপ্রবণতা বৃদ্ধির মাধ্যমে। ইবনে সীনা (৯৮০-১৩৭ খ্রি.) তাঁর ‘আল-কানুন ফীত্-তীব’ গ্রন্থে বলেন : ‘মাসের প্রথম ভাগে শিঙ্গা লাগাতে নিষেধ করা হয়েছে, কারণ এ সময়ে মিক্সার ঠিক মতো প্রভাব বিস্তার করতে পারে না। একইভাবে মাসের শেষ ভাগেও শিঙ্গা ব্যবহার না করতে বলা হয়েছে। কারণ এ সময়ে এর কার্যকরণ মতা হ্রাস পায়; বরং মাসের মধ্যার্ধে এর ব্যবহারের নির্দেশ এসেছে, যাতে চাঁদের আলো ও আকর্ষণ বৃদ্ধির সাথে সাথে মিক্সারের কার্যকরণ মতার পূর্ণতা পায়।’

আইয়ামে বীজের সময়কালে ভূপৃষ্ঠের ওপর এই প্রভাবের প্রমাণ পাওয়া যায় এ দিনগুলোতে নদী-সাগর পাড়ে গেলে। কেননা এ সময়ে জোয়ার ও ভাটা সর্বোচ্চ সীমায় অবস্থান করে এবং পানির তীব্রতা বেড়ে যায়। দেখা যায় অন্য সময়ে জোয়ারে যত পানি থাকে এ সময়ে ভাটাতে সমপরিমাণ পানি থাকে। একইভাবে মানুষের ওপর চাঁদের এ প্রভাবের প্রমাণ পাওয়া যায় ওই দিনগুলোতে আদালত, পুলিশ থানা বা বিচারালয়ে গেলে। দেখা যায়, বড় বড় অপরাধ, হত্যা, চুরি, বিচ্ছেদ, ধর্ষণ ইত্যাদি এ সময়কালে বৃদ্ধি পায়। ‘রোজা ঢালস্বরূপ’ হওয়ায় প্রবৃত্তির যাবতীয় খামখেয়ালিপনা থেকে নিজেকে বিরত রাখা সম্ভব হয়। রাসূলুল্লাহ সা: কর্তৃক আইয়ামে বীজের রোজার অসিয়তের মধ্যে তা-ই নিহিত রয়েছে এক চিরন্তন মুজিজা। চাঁদের পূর্ণতা ও মানবীয় অপরাধপ্রবণতা বৃদ্ধির এ দিনগুলোতে রোজা মানবিক উৎকর্ষতা সাধন, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, বিভিন্ন দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণের এক বিজ্ঞানময় পদ্ধতির বহিঃপ্রকাশ, যা একজন উম্মি নবীর গৃহীত বাস্তবমুখী এক কর্মসূচি।

অতএব মানুষের আত্মিক, মানবিক, পারিবারিক, সামাজিক ও আন্তর্জাতিক জীবনের বিভিন্ন সমস্যা দূরীকরণের েেত্র আইয়ামে বীজের রোজা এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। মূলত ইসলামের প্রতিটি বিধানই বিজ্ঞানসম্মত। আধুনিক বিজ্ঞানের চরম উৎকর্ষতার যুগে এটাই প্রমাণ হয়েছে যে, ইসলামের বিধিবিধান অনুযায়ী জীবনযাপনই মানুষের দৈহিক, আত্মিক, মানসিক ও পারিপার্শ্বিক উৎকর্ষতার একমাত্র গ্যারান্টি। অতএব প্রতিটি মুসলমান তথা গোটা মানবতার উচিত রাসূলুল্লাহ সা: প্রদর্শিত জীবনপদ্ধতি অনুযায়ী জীবন পরিচালনা করা।

তবেই আমরা সেই মানুষের দলভুক্ত হতে পারব, যাদের সম্পর্কে আল্লাহর নবী করীম সা: বলেন : ‘ঈমানের দিক থেকে ওই সব লোক সর্বাধিক আশ্চর্যজনক, যারা আমার পরে আগমন করবে, তারা আমার প্রতি ঈমান আনবে অথচ তারা আমাকে দেখেনি। তারা আমার সত্যতার প্রমাণ দিবে অথচ তারা আমাকে দেখেনি; তারা আমার ভাই’ (তাবরানি)।
১৯৭৮ থেকে ১৯৮২ এর মধ্যে কয়েকজন খ্যাতনামা বিজ্ঞানী গবেষণা মাধ্যমে সিদ্ধান্থে আসেন, পূর্ণচন্দ্র শুধুমাত্র মানুষের আবেগ বা চঞ্চলতাই বৃদ্ধি করে না, মানুয়ের অপরাধ প্রবণতাকেও জাগিয়ে দেয়।তাঁদের আরও বক্তব্য যে, এ সময়ে চাঁদের আলো এবং আকর্ষণ মানুষের শারীরিক ও মানসিক শক্তির অবনতি, বিভিন্ন প্রকার রোগ, হত্যা এবং আত্বহত্যা করার মানসিকতার সহায়ক হয়ে উঠে।১৯৬৩ সালে লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয় ফরেনসিক সায়েন্স - ভেষজ বিজ্ঞান, রোগনিদান তত্ত্ব ও বিষ বিজ্ঞান সম্বন্ধে একটি আন্তর্জাতিক আলোচনা চক্রে পৃথিরীর খ্যাতনামা বিজ্ঞানীরা অংশ গ্রহণ করেন।সেখানে ম্যাসাচুসেটস্‌ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানী ডঃ জ্যানিনো একটি গবেষণা পত্র উপস্থাপিত করে বলেন, সাহিত্য এবং প্রাচীন জনশ্রুতিতে চাঁদের প্রভাবে মানুষের সামাজিক মতিভ্রম বা উম্মত্ততা-কুসংস্কার বা উদ্ভট কল্পনা নয়, সত্যই চাঁদ মানুষকে প্রভাবিত করে।ডঃ জ্যানিনো চাঁদের প্রভাব সম্বন্ধে বহু যুক্তিপূর্ণ বক্তব্যের উপসংহারে বলেন, শারীর বৃত্তীয় পরীক্ষার দ্বারা প্রমাণিত হয়েছে যে, পূর্ণিমা ও অমাবস্যায় মানুষের দেহের তড়িৎ বিভব বৃদ্ধি পায়।
ল্যাটিন ভাষায় চাঁদকে লুনা বলে।এই লুনাই উন্মাদনা সৃষ্টির কারক বলে উন্মাদ কথার ইংরেজী লুনাটিক শব্দের উৎপত্তি মহাকবি মিল্টন তার ‘প্যারাডাইস লষ্ট’ মহাকাব্যে মানুয়ের মস্তিষ্কের সঙ্গে চাঁদের সংযোগ কথা উল্লেখ করেছেন।

340 total views, 2 views today

Facebook Comments