লোড হচ্ছে
অপেক্ষা করুন

হিজামার ইতিহাস

< সূচীপত্রে ফেরত যান

হিজামা (কাপিং থেরাপী) একটি সহজ, নিরাপদ এবং একই সময়ে খুবই কার্যকারী চিকিৎসা ব্যবস্থা। এটি মূল চিকিৎসা ব্যস্থার সাথে একটি অল্টারনেটিভ থেরাপী হিসেবে হাজার বছর ধরে চর্চা হয়ে আসছে। প্রাচীন মিশরীয় এবং চাইনিজ চিকিৎসকদের আদি লিপি হতে এর নিশ্চিত প্রমাণ পাওয়া যায়।

বিংশ শতাব্দীতে হিজামা একটি সহজ এবং কার্যকারী অল্টারনেটিভ চিকিৎসা ব্যবস্থা হিসেব গতানুগতিক চিকিৎসা বিজ্ঞানে যোগ হয়েছে।পূর্ব থেকে পশ্চিম এবং উত্তর থেকে দক্ষিণ, অনেক সভ্যতা হিজামা চর্চা করে আসছে একটি “ঘরোয়া চিকিৎসা ব্যবস্থা” হিসেবে। প্রাক যুগে গবাদী পশুর শিং দিয়ে হিজামা করা হতো। এটাকে তাই “Horn Therapy” ও বলা হতো। এরপর ধারাবাহিকভাবে আসে বাঁশ, গ্লাস, প্লাস্টিক ইত্যাদি।

চীনা ইতিহাসঃচীনে হিজামা “কাপিং থেরাপী” নামে সুপরিচিত।প্রাচীন চাইনিজ রেকর্ড অনুযায়ী প্রাচীন “বশু” যা আবিষ্কৃত হয় হান ডাইনাস্টির প্রাচীন স্তম্ভ হতে ১৯৭৩ সালে যেখানে কাপিং এর কথা পাওয়া যায়।

এছাড়া ২৮ খ্রিস্টাব্দতে “জো হো ফাং” বই এ এবং ৭৫৫ খ্রিস্টাব্দে “উইতাইমিয়াও” তে যক্ষ্মা চিকিৎসায় কাপিং এর তথ্য পাওয়া যায়। এরপর তিনশত বছর পর আরেকটি প্রাচীন বই “সুসেন লিয়াং ফাং” এ পাওয়া যায় কাপিং দ্বারা কার্যকারীভাবে দীর্ঘমেয়াদী কাশি এবং বিষাক্ত সাপের কামড়ের সফল চিকিৎসার তথ্য। প্রায় ৫০০ বছর আগে, উইকেযেন জং নামে একজন বিখ্যাত চিকিৎসক হিজামাকে সার্জিকাল প্রাক্টিসের অন্তর্ভুক্ত করেন।

চীনা সমাজে কাপিং চিকিৎসার আধিপত্যের দরুন, আধুনিক চাইনিজ চিকিৎসা বিজ্ঞানেও হিজামা নিজের স্বতন্ত্র স্থান করে নিয়েছে বর্তমানে। ১৯৫০ সালে হিজামার উপকারীতা এবং কার্যাকারীতা রিসার্চ দ্বারা প্রমাণিত হয় এবং কাপিং থেরাপী নামে অফিসিয়াল থেরাপী হিসেবে চায়নার সব হাসপাতালে যুক্ত হয় “হিজামা”।চীনা একটি প্রবাদ বাক্য – ” আকুপাংচার এবং কাপিং, অর্ধেকেরও বেশী রোগ নিরাময় করে”।

পশ্চিমা বিশ্ব এবং মধ্যপ্রাচ্যে হিজামাঃ-লন্ডনের হিজামা বিশেষজ্ঞ স্যামুয়েল বেফিল্ড ১৮২৩ খ্রিস্টাব্দে বলেছেন, “হিজামা একটি শিল্প”। -হাজার বছর ধরে চিকিৎসা বিজ্ঞানের লেখকরা হিজামাকে দুই ভাগে ভাগ করেছেন- শুষ্ক (Dry Cupping) এবং আদ্র (Wet Cupping)। ড্রাই কাপিং এ শরীর থেকে কোনো রক্ত বের করা হয় না। পক্ষান্তরে, ওয়েট কাপিং শুরু করা হয় শুষ্ক কাপিং দিয়ে, এরপর ধারাবাহিকতায় কাটার ফলে রক্ত বের হয়।

-মিশরের প্রধান রাবী, রাবী মশে বিন মাসুন, তার বইয়ে হিজামার কথা বলেছিলেন।মুসলিম বিশ্বে হিজামাঃ -প্রাগৈতিহাসিক যুগ ধরেই মুসলিমরা হিজামা চর্চা করে আসছে। চীনা সমাজে যা কাপিং নামে পরিচিত তা মুসলমানদের মধ্যে “হিজামা” নামে প্রসিদ্ধ।-সর্বশেষ নবী এবং রাসূল হযরত মুহাম্মাদ (সল্লাল্লহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নিয়মিত হিজামা করাতেন এবং অন্যদেরও উৎসাহ দিতেন। হিজামা নিয়ে রয়েছে সহস্রাধিক হাদিস।

-দামেস্কের লেখক ইমাম ইবনে কাইয়ুম আল জাজিয়া এর লিখিত বই “Healing with Medicine of Prophet” এ এসেছে হিজামা তে রয়েছে বহু রোগের শেফা।