লোড হচ্ছে
অপেক্ষা করুন

Category: Uncategorized

মাহদির আত্মপ্রকাশ এর আগে

সিরিয়ার গুরুত্ব ও যুদ্ধ শুরু হওয়ার পূর্বের অবস্থাঃ

** ইবনে কুররা তার পিতা কুররা ইবনে হায়দা (রাঃ) থেকে বর্নিত,রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এরশাদ করেন, শামবাসী (সিরিয়া) ধ্বংস হলে আমার উম্মতের জন্য তেমন কোনো কল্যান বয়ে আনবে না (সিরিয়া বাসীর গুরুত্ব সবচেয়ে বেশি)।

[ আল ফিতান: নুয়াইম বিন হাম্মাদ – ৬৫৭ ]

** হযরত সুলাইমান ইবনে হাতেব হিময়ারী (রহঃ) থেকে বর্নিত, তিনি বলেন, জনৈক লোক প্রায় চল্লিশ বৎসর হতে হযরত কা’ব (রাঃ) থেকে শুনে আসছে যে, তিনি বলেন যখন ফিলিস্তিন দেশে ফিৎনা ব্যাপক আকার ধারন করবে, তখন কূপ বা কলসিতে পানি গড়িয়ে পড়ার ন্যায় শামের (সিরিয়ার) দিকে বিভিন্ন ধরনের ফিৎনা ধেয়ে আসবে। অতঃপর তাদের সামনে সবকিছু উম্মোচন হয়ে যায়, অথচ তখন তোমরা খুবই লজ্জিত ও নগন্য জাতি হবে।
[ আল ফিতান: নুয়াইম বিন হাম্মাদ – ৬৭৫ ]

** হযরত কা’ব (রহঃ) থেকে বর্নিত, তিনি বলেন, পৃথিবীর মূল বা, মাথা হচ্ছে শাম দেশে(সিরিয়া) , তার উভয় ডানা হচ্ছে, মিশর এবং ইরাকে এবং লেজ হচ্ছে, হেজাজ (সৌদি আরব, কাতার বাহরাইন, আরব আমিরাত) ভুমিতে। আর সেই লেজের উপর বাজ পাখিরা মলত্যাগ করবে (সিরিয়ার কারনে সর্বশেষ সৌদি আরব, কাতার, বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত আক্রান্ত হবে)।

[ আল ফিতান: নুয়াইম বিন হাম্মাদ – ৬৬৭ ]

** হযরত কা’ব (রহঃ) থেকে বর্নিত তিনি বলেন, দীর্ঘদিন পর্যন্ত মানুষ মাথায় আঘাত প্রাপ্ত হতে থাকবে। যখনই এভাবে মাথায় আঘাত প্রাপ্ত হবে অর্থাৎ, শাম(সিরিয়া) দেশ আক্রান্ত হবে তখনই মানুষ ধ্বংসের দ্বার প্রান্তে উপনীত হতে থাকবে।কা’ব (রহঃ) কে মাথায় আঘাত প্রাপ্ত হওয়া সম্বন্ধে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বললেন, মাথায় আঘাত প্রাপ্ত হওয়ার অর্থ হচ্ছে, শাম(সিরিয়া) দেশ বিরান(ধ্বংস) হয়ে যাওয়া।

[ আল ফিতান: নুয়াইম বিন হাম্মাদ – ৬৬৮ ]

** হযরত আবু আব্দুর রব তাবী (রহঃ) থেকে বর্ননা করেন, তিনি এরশাদ করেন, যখন তুমি শামে (সিরিয়াতে) আকাশচুম্বি ভবন নির্মান হতে দেখবে এবং সেখানে এমন ধরনের গাছ লাগানো হবে, যা হযরত নূহ (আঃ) এর যুগেও লাগানো হয়নি, তাহলে বুঝতে হবে তোমাদের প্রতি ফিৎনা ধেয়ে আসছে।

[ আল ফিতান: নুয়াইম বিন হাম্মাদ – ৬৬৬ ]

আমরা দেখেছি, অবৈধ ইহুদী রাষ্ট্র ঈসরাইল প্রতিষ্ঠার পর থেকেই মুসলিম জাতির দুর্দিন শুরু হয়। এর পর একে একে ১৯৪৮, ১৯৫৬, ১৯৬৭, ১৯৭৩ সালেও যুদ্ধ করে ইহুদীদের পরাজিত করা সম্ভব হয়নি, বরং মধ্যপ্রাচ্যের এই বিষফোঁড়াটি এখন পুরো পৃথিবীর জন্যই বিষফোঁড়ায় রুপান্তরিত হয়েছে। তারপর ২০১১ সাল থেকেই মুসলিম উম্মাহর জন্য আরো কঠিন দুর্দিন শুরু হয়। যার শেষ কোথায়, আল্লাহ ছাড়া আর কেউই জানে না।

সিরিয়ার ফিতনা হবে খুবই ভয়াবহঃ

** হযরত আবুল আলিয়া (রহঃ) থেকে বর্নিত, তিনি বললেন, হে লোক সকল! যতক্ষন পর্যন্ত শাম (সিরিয়া) দেশের দিক থেকে কোনো ফিৎনা আসবেনা, ততক্ষন তোমরা সেটাকে কোনো ফিৎনাই মনে করোনা। যখনই শামের(সিরিয়া) দিক থেকে ফিৎনা আসবে, সেটাই হবে, অন্ধ ফিৎনা।

[ আল ফিতান: নুয়াইম বিন হাম্মাদ – ৬৬১ ]

** হযরত কা’ব (রহঃ) থেকে বর্নিত, তিনি বলেন, প্রতিটি ফিৎনা প্রাথমিক অবস্থায় থাকবে, যতক্ষন পর্যন্ত সেটা শাম(সিরিয়ায়) দেশে প্রকাশ হবেনা। যখনই শাম(সিরিয়ায়) দেশে উক্ত ফিৎনা দেখা দিবে তখন বুঝতে হবে, সেটা চুড়ান্ত রুপ নিয়েছে।

[ আল ফিতান: নুয়াইম বিন হাম্মাদ – ৬৬০ ]

** বিশিষ্ট সাহাবী হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ) থেকে বর্নিত, তিনি এরশাদ করেন, প্রত্যেক ফিতনা বড়ই কঠিন। এবং সেই ফিতনাই একদিন প্রকাশ পাবে, শাম (সিরিয়া) নামক দেশটিতে। আর যখন উক্ত শামদেশে ফিতনার উদ্ভব হবে তখনই চতুর্দিকে অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে যাবে।

[ আল ফিতান: নুয়াইম বিন হাম্মাদ – ৬৫৯ ]

** কা’ব রহঃ থেকে বর্নিত, শাম দেশে মোট তিন ধরনের ফিৎনা দেখা দিবে। একটি ফিৎনা হচ্ছে, অবাধ রক্তপাতের ফিৎনা, দ্বিতীয় ফিৎনা হচ্ছে, আত্নীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন ও সম্পদ ছিনিয়ে নেয়ার ফিৎনা। উক্ত ফিৎনার সাথে সম্পৃক্ত হবে মারিবের ফিৎনা, যা মূলতঃ অন্ধ ফিৎনা হিসেবে প্রসিদ্ধি লাভ করবে।

[ আল ফিতান: নুয়াইম বিন হাম্মাদ – ৬৫৬ ]

২০১১ সালে শুরু হওয়া সিরিয়া যুদ্ধের মাধ্যমে পঞ্চম ফিতনা শুরু হয়েছে। আর এর মাধ্যমেই গোটা পৃথিবীতে একটা ব্যাপক পরিবর্তন শুরু হয়েছে, গোটা মুসলিম উম্মাহ এর পর থেকে লাঞ্ছিত, অপমানিত হওয়া শুরু হয়েছে, সেটা সিরিয়া, লিবিয়া, মালি, আলজেরিয়া, ইয়েমেন, আরাকান, শ্রীলঙ্কা, ফিলিপাইনে আমরা দেখতে পেয়েছি, শরণার্থীদের মিছিল কেবল দীর্ঘই হচ্ছে, তুরস্কে প্রায় ৫০ লক্ষ, জার্মানিতে ১০ লক্ষ, বাংলাদেশে ১০ লক্ষ, জর্ডানে ৬ লক্ষ শরণার্থী আশ্রয় নিয়েছে। নাস্তিক্যবাদ ও ইসলাম বিদ্বেষী মনোভাব নতুন মাত্রা পেয়েছে, এমনকি অমুসলিম দেশের পাশাপাশি মুসলিম দেশ গুলোতেও এটি প্রকাশ্য ভাবেই শুরু হয়েছে। সেটা আমরা ফ্রান্সের শার্লি এব্দো, বাংলাদেশের গণজাগরণ মঞ্চ, এছাড়াও ভারত, পাকিস্তান, আমরিকা ও ইউরোপে দেখতে পাচ্ছি। এমনকি ইসলামের ফরজ বিধান পর্দা বিরোধী আইন ইউরোপ, আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়া, ভারত, বাংলাদেশ ও ইন্দোনেশিয়াতে বাস্তবায়ন করছে।

জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে গ্রামের লোকজন শহরে আশ্রয় নেয়াঃ

** হযরত আবু জাহিরিয়্যাহ (রহঃ) থেকে বর্নিত, তিনি বলেন, তোমাদের অবস্থা কেমন হবে,যখন তোমাদের গ্রামবাসীদের লোকজন তোমাদের ভিতরে প্রবেশ করে তোমদের ধন সম্পদের মধ্যে শরীক হয়ে যাবে এবং তোমাদের কেউ তাদেরকে বাধা দিতে পারবেন। যার কারনে কেউ বলে থাকে “যত বেশি সময় তোমরা সম্পদশালী ছিলে, আমরা তত বেশি সময় পর্যন্ত দুর্ভাগ্যতে ছিলাম।

[ আল ফিতান: নুয়াইম বিন হাম্মাদ – ৬৮১ ]

** হযরত ইয়াহইয়া ইবনে জাবের (রহঃ) বলেন, তোমাদের গ্রামবাসীরা তোমাদের থেকে অমুখাপেক্ষি হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত তোমাদের মাঝে কল্যান বাকি থাকবে। তাছাড়া কল্যান তোমাদের সাথে থাকবে, যতক্ষন পর্যন্ত বহন করার মত পিঠ তোমাদের সাথে থাকবে।

[ আল ফিতান: নুয়াইম বিন হাম্মাদ – ৬৮২ ]

** হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর (রাঃ) থেকে বর্নিত,তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এরশাদ করেছেন, কল্যান তোমাদের সাথে থাকবে, যতক্ষন পর্যন্ত তোমাদেরর গ্রাম বাসিরা শহরবাসীদের থেকে অমুখাপেক্ষি থাকবে। যদি তারা তোমাদের কাছে আসে তাহলে তোমরা তাদেরকে নিষেধ করোনা। যেহেতু তোমাদের কাছে সম্পদের ছড়াছড়ি থাকবে। তারা বলবে, দীর্ঘদিন থেকে আমরা ক্ষুধার্ত, অথচ তোমরা তৃপ্ত সহকারে খেয়ে যাচ্ছ এবং দীর্ঘদিন হতে আমরা কষ্ট শিকার করে যাচ্ছি অথচ তোমরা সাচ্ছন্দ বোধ করে যাচ্ছ। অতঃপর আজকে আমরা তোমাদের সহানুভূতি দেখাচ্ছি।

[ আল ফিতান: নুয়াইম বিন হাম্মাদ – ৬৮৫ ]

২০০৭ সাল থেকে ২০১০ পর্যন্ত প্রচন্ড গরম ও খরার কারনে সিরিয়াতে বিভিন্ন এলাকার গ্রামের বাসিন্দারা প্রায় ১৫ লক্ষ মানুষ বড় বড় শহর গুলোতে আশ্রয় নেয়। ঐই তিন বছর তাপমাত্রা ২ ডিগ্রি বৃদ্ধি পায় এবং বৃষ্টিপাত প্রায় বন্ধ হয়ে যায়।গ্রামের কৃষকেরা পানির অভাবে কৃষি কাজ বন্ধ করে দেয়। তিউনেসিয়াতে যে যুবক আত্মহত্যার কারণে, আরব বসন্ত শুরু সেও চাকরির অভাবে নিজের গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন জ্বালিয়ে দেয়। অর্থাৎ পুরো আরব বিশ্বে এই জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব পরে। ২০১১ শুরু হওয়া আরব বসন্তের সময় গ্রাম থেকে উঠে আসা লোকজন বিশেষ করে, সিরিয়াতে তারা সরকার বিরোধী বিক্ষোভ ও ফ্রি সিরিয়ান আর্মিতে যোগদান করে। বস্তুত আল্লাহ তায়ালা তার সুনিপুণ কৌশলে তার জমিনে ন্যায় ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠার পথ তৈরি করে দিচ্ছেন। যা আমাদের কল্পনার বাইরে।

নিউজ লিংকঃ http://america.aljazeera.com/articles/2015/3/2/syrias-civil-war-linked-partly-to-drought-global-warming.html

ছোট বাচ্চাদের মাধ্যমে যুদ্ধ শুরু হবেঃ

** হযরত সাঈদ ইবনে মুসাইয়িব (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, তিনি বলেন একটা যুদ্ধ হবে। যার শুরুতে থাকবে ছোটদের খেলাধুলা। (ছোটদের খেলা থেকেই যুদ্ধ শুরু হবে)। যুদ্ধটি এমন হবে যে, এক দিক দিয়ে থামলে আরেক দিক দিয়ে (যুদ্ধের আগুণ) প্রজ্জলিত হয়ে উঠবে। যুদ্ধ শেষ হবে না, এমতবস্থায় আকাশ থেকে এক সম্বোধনকারী (জিব্রাইল আঃ) সম্বোধন করে বলবে- অমুক ব্যক্তি (ইমাম মাহদী) নেতা। আর ইবনুল মুসাইয়িব তার দুই হাত গুটাবেন ফলে তার হাত দুটো সংকুচিত হয়ে যাবে। অতপর তিনি এই কথাটি তিন বার বললেন, সেই আমীর ( ইমাম মাহদী) বা নেতাই সত্য।

[ আল ফিতান: নুয়াইম বিন হাম্মাদ – ৯৭৩ ]

** হযরত ইবনুল মুসাইয়িব (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, তিনি বলেন সিরিয়ায় একটি যুদ্ধ হবে। যার শুরুটা হবে শিশুদের খেলাধূলা (দিয়ে)। অতপর তাদের এযুদ্ধ কোন ভাবেই থামবে না। আর তাদের কোন দলও থাকবে না। এমনকি আকাশ থেকে এক সম্বোধনকারী ( হযরত জীব্রাইল আঃ) সম্মোধন করে বলবে, তোমাদের উপর অমুক ব্যক্তি ( ইমাম মাহদী) তোমাদের আমীর  সুসংবাদ দাতার হাত উথিত হবে।

[ আল ফিতান: নুয়াইম বিন হাম্মাদ – ৯৭৭ ]

২০১১ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ১৪ বছর বয়সী ৭ম শ্রেণীর ছাত্র মুয়াইয়া সিয়াসনেহ টেলিভিশনে তিউনেশিয়া ও মিশরের প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে সরকার বিরোধী খবর দেখে দক্ষিণ সিরিয়ার দারা শহরে নিজের স্কুলের দেয়ালে সরকার বিরোধী স্লোগান লেখে। ব্যাস, রাতের বেলা পুলিশ এসে তাকে সহ আরো ৩ বন্ধুকে আটক করে মারাত্মক নির্যাতন করে। যার কারণে দারা শহরে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পরে, এবং পরবর্তীতে যা পুরো সিরিয়াতে ছড়িয়ে পরে। পরিস্থিতি খারাপ দেখে বাশার আল আসাদ সেনাবাহিনী মোতায়েন করে এবং তাদের কে নির্দেশ দেয় বিক্ষোভকারীদের সরাসরি গুলি করতে। কিন্তু সেনাবাহিনীর কেউ কেউ গুলি করতে অস্বীকার করে। তারপর সেনাবাহিনীর সেই বিদ্রোহী অংশটি নিয়ে ঘটিত হয় FSA।

খবরের লিংকঃ https://www.aljazeera.com/programmes/specialseries/2017/02/boy-started-syrian-war-170208093451538.html

ইমাম মাহদীর আবির্ভাব পর্যন্ত সিরিয়া যুদ্ধ চলবেঃ

** হযরত সাঈদ ইবনুল মুসাইয়াব (রহঃ) থেকে বর্নিত, তিনি বলেন, শাম দেশে (সিরিয়া) ব্যাপক ফিৎনা দেখা দিবে। যখনই উক্ত দেশের কোনো প্রান্তের ফিৎনা একটু শান্ত হবে, তখনই অন্য প্রান্তে উত্তপ্ত হয়ে উঠবে। এভাবে চলতে থাকবে যা কখনো স্থিতিশীল হবেনা, এক পর্যায়ে একজন ঘোষক আসমান থেকে ঘোষনা করবে, হে লোকসকল! নিঃসন্দেহে অমুক হচ্ছে,(ইমাম মাহদী) তোমাদের আমীর।

[ আল ফিতান: নুয়াইম বিন হাম্মাদ – ৬৭৩ ]

** হযরত আব্দুর রহমান (রহঃ)  তার মাতা থেকে বর্ণনা করেন, তার মাতা ছিলেন বৃদ্ধা। তিনি বলেন আমি (আমার মাতাকে) ইবনে যুবাইরের যুদ্ধের কথা বললাম যে, এটা এমন একটি যুদ্ধ যাতে মানুষ হালাক বা বরবাদ হয়েছে। তখন তিনি আমাকে বললেন হে বৎস! কখনো নয়। বরং উহার পরে (আখেরী যুগে)  এমন এক যুদ্ধ হবে (অনেক) মানুষ বরবাদ হবে। তাদের যুদ্ধ থামবে না, আর এরই মাঝে আকাশ থেকে এক সম্বোধনকারী(হযরত জিব্রাইল আঃ) সম্বোধন করে বলবে তোমাদের উপর অমুক ব্যক্তি(ইমাম মাহদী) তোমাদের আমীর ।

[ আল ফিতান: নুয়াইম বিন হাম্মাদ – ৯৭৬ ]

** হযরত সুলাইমান ইবনে হাতেব হিময়ারী (রহঃ) থেকে বর্নিত, তিনি বলেন, নিঃসন্দেহে শাম(সিরিয়া) দেশে নানান ধরনের ফিৎনা প্রকাশ পাবে। যেখানে ফিৎনা এমন ভাবে আসবে যেন কূপের ভিতর পানি পতিত হচ্ছে, যা তোমাদের কাছে খুবই স্পষ্ট হয়ে উঠবে। এবং তোমরা ক্ষুধার কারনে অত্যান্ত লজ্জিত হবে। সে সময় রুটির ঘ্রান মেশকের ঘ্রান থেকেও বেশি পছন্দনীয় হয়ে উঠবে।

[ আল ফিতান: নুয়াইম বিন হাম্মাদ – ৬৬৫ ]

** হযরত কা’ব (রহঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি এরশাদ করেন, মাশরেকী(ইরাকী) শামীদের(সিরিয়া) ফেৎনার প্রকাশ হবে, তখন আরবের বড় বড় রাজা বাদশাহদের পতন এবং আরববাসীদের বিভিন্ন লঞ্চনার সম্মুখিন হতে হবে। এক পর্যায়ে পশ্চিমাদের(Tuareg) আগমন ঘটবে।

[ আল ফিতান: নুয়াইম বিন হাম্মাদ – ৫৬০ ]

অর্থাৎ কালো পতাকাবাহী ইরাকীরা যখন সিরিয়ার কালো পতাকাবাহীদের বিরুদ্ধে হোমস শহরে মারাত্মক যুদ্ধ শুরু করবে। তারপরই সৌদি আরব, কাতার, আরব আমিরাত, বাহরাইন, ওমান কুয়েত এর বাদশাহ দের পতন হবে। তার পরই হলুদ পতাকাবাহী আবকা জাতি (Tuareg) মিশর দখল করে সিরিয়ায় এসে হাজির হবে।

রমজান মাসে আকাশ থেকে বিকট শব্দে আওয়াজ আসবে খুব শীঘ্রই

ইমাম মাহদীর আবির্ভাবের পূর্বে রমজান মাসে কয়েকটি নিদর্শন প্রকাশিত হবে। তার মধ্যে রমজান মাসের মাঝামাঝি সময়ে শুক্রবার রাতে আকাশে বিকট শব্দে আওয়াজ হওয়া একটি নিদর্শন। আর এই নিদর্শনটি মানব জাতির জন্য একটি দুর্যোগ, দুর্ভিক্ষ ও বিপদ আপদের নিদর্শন। তাই প্রতিটি সচেতন মুসলমানের জন্য সামনের রমজান মাস গুলোতে আমাদের খুবই সচেতন থাকতে হবে। অন্যথায়, আমাদের গাফিলতির জন্য রাসূলুল্লাহ (সাঃ) সতর্কবাণী সত্যেও আমরা মারাত্মক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

জুলফি বিশিষ্ট একটি তারকা(আগ্নি শিখা) উদিত হবে।

**হযরত ওলীদ (রহঃ) কা’ব (রহঃ) হতে বর্ননা করেন,তিনি বলেন, হযরত মাহদি (আঃ) এর আগমনের পূর্বে পূর্বাকাশে জুলফি বিশিষ্ট একটি তাঁরকা উদিত হবে।
[আল ফিতানঃ নুয়াইম বিন হাম্মাদ – ৬৪২]

** হযরত কা’ব (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, এমন একটি তারকা উদিত হবে,যার আলো হবে চন্দ্রের আলোর ন্যায়।এরপর উক্ত তারকা সাপের ন্যায় কুন্ডুলি পাকাতে থাকবে।যার কারনে তার উভয় মাথা একটা আরেকটার সাথে মিলিত হওয়ার উপক্রম হবে। দীর্ঘকার রাত্রে দুইবার ভুমিকম্প হওয়া এবং আসমান থেকে জমিনের দিকে যে তারকাটি নিক্ষিপ্ত হবে,তার সাথে থাকবে বিকট আওয়াজ।এক পর্যায়ে সেটা পূর্বাকাশে গিয়ে পতিত হবে। যা দ্বারা মানুষ বিভিন্ন ধরনের বালা-মুসিবতের সম্মুখিন হবে। (হাদিস বড় হওয়ায় কেবল শেষ অংশ উল্লেখ করা হল)
[ আল ফিতান: নুয়াইম বিন হাম্মাদ – ৬৪৩ ]

**আবু জাফর ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আলী (রহঃ) বলেন, “যখন পূর্বাকাশে ৩ দিন থেকে ৭ দিন পর্যন্ত আগুনের অগ্নিশিখা দেখতে পাবে, তখন আহলে মুহাম্মদ (সাঃ) এর (ইমাম মাহদীর) জন্য অপেক্ষা কর। একপর্যায়ে আল্লাহ তায়ালা (হযরত জিব্রাইল আঃ এর মাধ্যমে) মাহদী আঃ এর নাম ঘোষণা করবেন। যা পৃথিবীর সকল মানুষ শুনতে পাবে।
(আল মুত্তাকী আল হিন্দিঃ আল বুরহান ফি আলামত আল মাহদী, পৃষ্ঠা নং – ৩২)

** ” একটি বিরাট অগ্নি গোলক পূর্ব দিক থেকে উদিত হবে, যা ৩ দিন অথবা, ৭ দিন সারিবদ্ধভাবে দৃশ্যমান হবে। (বিস্ফোরণের) পর প্রচন্ড অন্ধকারে আকাশ ঢেকে যাবে। এটি (বিস্ফোরণের) পর নতুন ধরনের লালচে রঙের শিখা আকাশে দৃশ্যমান হবে, যা উষার আলোর মত দেখাবে না। এরপর এমন ভাষায় (হযরত জিব্রাইল আঃ এর) একটি ঘোষণা শোনা যাবে, যা পৃথিবীর সকল মানুষ বুঝতে পারবে।
( বারজানী, আল ইসায়া, পৃষ্ঠা – ১১৬)

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস প্রদেশের গ্রেন্ড রেপিট মিশিগানের Calvin College এর একদল গবেষক ও খ্যাতিমান জ্যোতির্বিজ্ঞানী প্রসেসর লরেন্স মুলনার বলেছেন, ২০২২ সালে এই প্রথম মানুষ খালি চোখে দুটি তারকার সংঘর্ষ দেখতে পাবে। তবে দুটি তারকার সংঘর্ষের পূর্বে পরস্পরের দিকে কয়েক দিন ঘুরতে থাকবে, এবং এদের আলো চাঁদের আলোর মত উজ্জ্বল হবে। এদের পরস্পরের সংঘর্ষের পর লাল রঙের আভা আকাশে ছড়িয়ে পরবে। যা American Astonomical Society (AAS) এর ২২৯ তম বৈঠকে এই গবেষণার বিষয়বস্তু উপস্থাপন করা হয়। ২০১৩ সাল থেকে তারা  Binary system বা, একই কক্ষপথে চলা এই দুটি তারকার উপর নজরদারি করে আসছিল এবং তারা তারকা দুটিকে KIC9832227 নামে চিহ্নিত করেছেন।

আরও পড়ুনঃ https://earthsky.org/space/star-predicted-to-explode-in-2022
আরও পড়ুনঃ https://en.wikipedia.org/wiki/KIC_9832227

এই তারকা (অগ্নি শিখা) কখন বিস্ফোরণ হবে?

হযরত ফিরোজ দায়লামি (রাঃ)  বর্ণনা করেন, আল্লাহর রাসুল (সাঃ) বলেছেন, “কোন এক রমজানে আওয়াজ আসবে।”সাহাবাগণ জিজ্ঞেস করলেন, “হে আল্লাহর রাসুল! রমজানের শুরুতে? নাকি মাঝামাঝি সময়ে? নাকি শেষ দিকে?” রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বললেন, “না, বরং রমজানের মাঝামাঝি সময়ে। ঠিক মধ্য রমজানের রাতে। শুক্রবার রাতে আকাশ থেকে একটি শব্দ আসবে। সেই শব্দের প্রচণ্ডতায় সত্তর হাজার মানুষ সংজ্ঞা হারিয়ে ফেলবে আর ৭০ হাজার বধির হয়ে যাবে।”সাহাবাগণ জিজ্ঞেস করলেন, “হে আল্লাহর রাসুল! আপনার উম্মতের কারা সেদিন নিরাপদ থাকবে?”রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বললেন, “যারা নিজ নিজ ঘরে অবস্থানরত থাকবে, সিজদায় লুটিয়ে আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা করবে এবং উচ্চ শব্দে আল্লাহু আকবর বলবে। পরে আরও একটি শব্দ আসবে। প্রথম শব্দটি হবে জিব্রাইল (আঃ) এর, দ্বিতীয়টি হবে শয়তানের। ঘটনার পরম্পরা এরূপঃ (Red nova বিস্ফোরণের) শব্দ আসবে রমজানে। ঘোরতর যুদ্ধ সংঘটিত হবে শাওয়ালে। আরবের গোত্রগুলো বিদ্রোহ করবে জুলকা’দা মাসে। হাজী লুণ্ঠনের ঘটনা ঘটবে জিলজ্জ মাসে। আর মুহাররমের শুরুটা আমার উম্মতের জন্য বিপদ। শেষটা মুক্তি। সেদিন মুসলমান যে বাহনে চড়ে মুক্তি লাভ করবে, সেটি তার কাছে এক লাখ মূল্যের বিনোদন সামগ্রীতে পরিপূর্ণ ঘরের চেয়েও বেশি উত্তম বলে বিবেচিত হবে।”
(মাজমাউজ জাওয়ায়েদ, খণ্ড ৭, পৃষ্ঠা ৩১০)

বিজ্ঞানীদের গবেষণা এবং Red nova star এর বিস্ফোরণ অনুযায়ী ২০২২ সালে এই বিস্ফোরণটি হতে পারে। তাই সামনের দিনগুলোতে বিশেষ করে রোজার মাসে অবশ্যই প্রতিটি মুসলমানের এই বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।

(তবে সুনির্দিষ্ট সময় কেবল আল্লাহ ভালো জানেন) আমি কেবল বিজ্ঞানীদের গবেষণা ও হাদীসের তথ্য অনুযায়ী সময় বের করেছি। এটা ভূলও হতে পারে আবার সঠিকও হতে পারে।

এই তারকা (অগ্নি শিখা) দেখা দিলে আমাদের কি করতে হবে?

” আমি আল্লাহর নামে শপথ করে বলছি, একটি অগ্নি গোলা/অগ্নি শিখা তোমাদেরকে ঘিরে ফেলবে। এই আগুন বর্তমানে বেরেহাট উপত্যকায় সুপ্ত অবস্থায় রয়েছে। এই আগুন লোকদেরকে ঘিরে ফেলবে, মানুষ ও সম্পদ সমূহকে পুড়িয়ে ফেলবে। পৃথিবীর সর্বত্র এটা মেঘের মতো ঘুরে বেড়াবে। এই আগুনের তাপমাত্রা দিনের বেলা থেকে রাতের বেলা বেশি হবে। ইহা পৃথিবীর কেন্দ্রের মধ্যে অনুপ্রবেশ করে, মানুষের মাথার উপর অবস্থান করতে থাকবে। এই আগুন ভয়ংকর শব্দ সৃষ্টি করতে থাকবে, যেমন  আকাশ ও স্থলভাগের মধ্যে বজ্রপাত হয়।”
( গ্রন্থঃ মুখতাসার তাজকিরাহ, লেখকঃ ইমাম কুরতুবী রহঃ, পৃষ্ঠা – ৪৬১)

হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এরশাদ করেছেন, যখন রমযান মাসে (Red nova star বিস্ফোরণের) বিকট আওয়াজ প্রকাশিত হবে,শাওয়াল মাসে যুদ্ধের ঝংকার শুনবে, জিলকদ মাসে বিভিন্ন গোত্রের মাঝে মতপার্থক্য দেখা দিবে, জিলহজ্ব মাসে রক্তপাত হবে। মুহাররম মাসে, মুহাররম কি? সে মাসে বিভিন্ন ধরনের মারামারি, হানাহানি, ঝগড়া-ফাসাদ চলতে থাকবে। একথাটি তিনি তিনবার বলেছেন। তিনি বলেন, আমরা জিজ্ঞেস করলাম, ইয়া রাসূলুল্লাহ! জায়হাহ্ কি? জবাবে রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বললেন, এটা অর্ধ রমাযান মাসের জুমার রাত্রে প্রকাশ পাবে। যার কারণে ঘুমন্ত ব্যক্তিরা জাগ্রত হয়ে যাবে, দাড়ানো অবস্থায় থাকা লোকজন বসে যাবে, কুমারী নারীগন ভয়-আতঙ্কে পর্দার ভিতর থেকে বেরিয়ে আসবে। এটা হবে এক জুমার রাত্রিতে, এমন এক বৎসর যখন অধিকহারে ভুমিকম্প হবে। সুতরাং তোমরা জুমার দিন নামায আদায় করার সাথে সাথে ঘরে প্রবেশ করে দরজা-জানালা লাগিয়ে দিবে। নিজেদেরকে চাদরাবৃত করলেও কানকে সজাগ রাখবে। যখনই বিকট কোনো আওয়াজ শুনতে পাবে তখনই আল্লাহ্র দরবারে সেজদাবনত হয়ে যাবে এবং সুবহানাল কুদ্দুছ, সুবহানাল কুদ্দুছ বলতে থাকবে।
[ আল ফিতান: নুয়াইম বিন হাম্মাদ – ৬৩৮ ]

আমাদের যা করতে হবে? (সংক্ষেপে)

A) আল্লাহর কাছে সকল পাপের জন্য তাওবা করতে হবে।
B) শুক্রবার রাতে বিস্ফোরণের পূর্বেই নিজের ঘরে অবস্থান করতে হবে এবং দরজা জানালা সব বন্ধ করে দিতে হবে। কোন ভাবেই বাইরে বা, খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করা যাবে না।
C) বিস্ফোরণের আওয়াজ শোনা মাত্রই জোরে জোরে তাকবির দিতে হবে, সেজদায় গিয়ে সুবহানাল কুদ্দুস সুবহানাল কুদ্দুস পাঠ করতে হবে।
D) এই তারকা (অগ্নি শিখা) নিদর্শন প্রকাশের পর মানব জাতির দুঃখ, দুর্দশা, কষ্ট, দুর্ভিক্ষ দেখা দিবে।
E) এক বছরের খাদ্য মজুদ করে রাখতে হবে।
F) যত দ্রুত সম্ভব শহর ছেড়ে গ্রামে চলে যেতে হবে।

Red nova star বিস্ফোরণের পূর্বেই এক বছরের জন্য খাদ্য মজুদ করে রাখতে হবেঃ

হযরত কাসির ইবনে মুররা আল হাজরনী (রহঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রমাযান মাসে আসমানে বিভিন্ন আলামত (Red nova Starবিস্ফোরণ) প্রকাশ পেতে থাকলে মানুষের মাঝে ব্যাপক এখতেলাফ (মতপার্থক্য) দেখা দিবে । তুমি এমন অবস্থা প্রাপ্ত হলে (দেখলে) তোমার সাধ্যানুযায়ী খাবারের মজুদ করে রাখ।
[ আল ফিতান: নুয়াইম বিন হাম্মাদ – ৬৩৪ ]

হযরত খালেদ ইবনে মা’দান (রহঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, অতিসত্ত্বর পূর্বদিক থেকে আগুনের তৈরি পিলারের ন্যায় এক নিদর্শন প্রকাশ পাবে। যেটা জমিনের সকলে দেখবে। তোমাদের কেউ এমন যুগ প্রাপ্ত হলে, সে যেন তার পরিবারের জন্য এক বৎসরের খোরাকী (খাদ্য) প্রস্তুত রাখে।
[ আল ফিতান: নুয়াইম বিন হাম্মাদ – ৬৩৩ ]

কেন আমাদেরকে ১ বছরের জন্য খাদ্য সংগ্রহ করে রাখতে হবে?

রাসূলুল্লাহ (সাঃ) ও তার সাহাবীরা কেন পূর্বাকাশে উজ্জ্বল তারকা দেখলে আমাদেরকে এক বছরের জন্য খাদ্য মজুদ করে রাখতে বলেছেন, তা একটু বৈজ্ঞানিক ভাবে ব্যাখ্যা করা প্রয়োজন।

  1. Red nova star বিস্ফোরণের পর মেঘের মতো যে লাল আভা আকাশে ছড়িয়ে পরবে, সেগুলো মূলত তাপমাত্রা বৃদ্ধি করতে সাহায্য করবে। কারন, KIC9832227 দুটি তারকা তে অগ্নি পরিবাহী উপাদান রয়েছে। আর এগুলো তাপমাত্রা বৃদ্ধির আরো একটি কারন হল, এসব ছড়িয়ে পরা উপাদান গুলোতে আবার সূর্যের তাপ পরবে। সহজ ভাষায় বললে, মনে করেন এখন স্বাভাবিক তাপমাত্রা হল ৩৫°ডিগ্রি থেকে 45°ডিগ্রি। কিন্তু Red nova বিস্ফোরণের পর তাপমাত্রা হবে ৭০° ডিগ্রি থেকে ৮০°ডিগ্রি। আর তাপমাত্রা যখন ৭০° ডিগ্রি থেকে ৮০° ডিগ্রি হবে, স্বাভাবিক ভাবেই মাঠের সকল ফসল ফলাদি জ্বলে পুড়ে ছাই হয়ে যাবে। নদ নদী, খাল বিল, পুকুরের পানি শুকিয়ে যাবে। এমনকি ভূগর্ভস্থ পানির স্তর ও নিচে নেমে যাবে। গবাদি পশু গরু, ছাগল, ভেড়া, গাদা, হাস, মুরগি সব মরে যাবে। এমনকি পোকা মাকর, অন্যান্য বন্য প্রাণী গুলো ও মরে যাবে।
  2. গাছ পালা, শাক সবজি এগুলো মূলত সূর্যের তাপ, আলো, পানি ও কার্বন ডাই অক্সাইড গ্রহনের মাধ্যমে বেড়ে উঠে এবং ফুল, ফল-মূল ও অক্সিজেন দেয়। কিন্তু যখন ৪০ দিন সূর্যের আলো পৃথিবীতে পরবে না, তখন স্বাভাবিক ভাবেই মাঠের ফসল ফলাদি ও শাক সবজি গুলো নষ্ট হয়ে যাবে এবং অত্যধিক তাপমাত্রার কারনে জ্বলে পুড়ে ছাই হয়ে যাবে।
  3. যখন তাপমাত্রা ৭০° ডিগ্রি থেকে ৮০° ডিগ্রি হয়ে যাবে, তখন খুব দ্রুতই এন্টার্কটিকা, গ্রীনল্যান্ড, সাইবেরিয়া অঞ্চল ও হিমালয় পর্বতের বরফ গলতে থাকবে। যার কারণে সমুদ্র পৃষ্ঠের পানির স্তর কয়েক মিটার বেড়ে যাবে। যার ফলে পৃথিবীর নিচু এলাকা গুলো যেমন বাংলাদেশের দক্ষিণ অঞ্চল, মালদ্বীপ, ইন্দোনেশিয়ার দ্বীপ সমূহ, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, ইরাকের বসরা কুফা নগরী, কুয়েত সহ অন্যান্য এলাকা পানির নিচে চলে যাবে। আর হাদীসে ও আছে ইরাকের বসরা ও কুয়েত অঞ্চল সমূহ পানিতে ডুবে যাবে।

হাদিসে বর্ণিত আছে, “ইমাম মাহদীর আবির্ভাব পূর্বে এক তৃতীয়াংশ মানুষ মারা যাবে যুদ্ধ, বিগ্রহ, তরবারি ও রক্তপাতের কারনে। আর এক তৃতীয়াংশ মারা যাবে ক্ষুধা, দুর্ভিক্ষ ও মহামারীর কারনে”।

সামনের দিনগুলোতে যে আমাদের জন্য বিপদের পর বিপদ অপেক্ষা করছে, সেটা কেবল আখিরুজ্জামান নিয়ে পড়াশোনা করলে বুঝা যায়। তাই সময় থাকতেই আল্লাহর দিকে ফিরে আসুন নয়ত লাঞ্ছনা, অপমান, দুর্ভিক্ষ, ক্ষুধার তীব্র যন্ত্রনা আর ধুকে ধুকে মরার জন্য অপেক্ষা করুন।

Natural Treatment for Coronavirus

“করোনা ভাইরাস” মূলকথা


মেডিকেল দুনিয়া জুড়ে ২ ধরনের ডাক্তার বা বিশেষজ্ঞ হয়ে থাকে


১) যে সমস্ত ডাক্তারগন শুধুমাত্র ঔষুধ দ্বারা রোগীকে চিকিৎসা করেন। আর তারা রোগী কে পন্য এবং রোগ কে অর্থ আয়ের একমাত্র মাধ্যম হিসেবে গ্রহন করেন। এ সমস্ত ডাক্তারদের কে আমরা বামপন্থী ডাক্তার হিসেবে ধরে নিলাম।


2) যে সমস্ত ডাক্তারগন সুন্দর পরামর্শ, নিরাপদ খাদ্যাভ্যাস, প্রাকৃতির কাছাকাছি অবস্থানকরন ও প্রয়োজন অনুপাতে ঔষুধ ব্যবহার করে রোগীকে সুস্থ করে তুলতে চেষ্টা করেন। এ সমস্ত ডাক্তারগন ও টাকা আয় করেন। তবে তারা কামনা করেন একটি সুস্থ পৃথিবীর। তাদের কাছে অর্থ থেকে রোগীর ঠোঁটের কোনের এক চিলতে খুশীময় হাসির দাম অনেক বেশি।আমরা তাদের কে ডানপন্থী ডাক্তার হিসেবে অভিহিত করলাম।


অতঃপর আমি করোনা বা এমন লাখো-কোটি ভাইরাস যা আমাদের শরীরে আগমন করে, এ ভাইরাসের আগমনের কারন, প্রতিকার ও মুক্তি সম্পর্কে ডানপন্থী বিশেষজ্ঞ ডাক্তারদের দিক- নির্দেশনা তুলে ধরলাম। বিশেষজ্ঞ ডাক্তাররা বলেছেন একজন সুস্থ মানুষের বছরে একবার এবং শিশু দের ছয়বার ফ্লু ফিভার বা ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত হওয়া স্বাভাবিক। বরং এই ভাইরাসগুলো একজন বাচ্চার immunity বা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে strong করে। তাকে আল্লাহ তায়ালার আদেশে সুস্থভাবে বাঁচতে সহায়তা করে।


এবং বিশেষজ্ঞ ডাক্তাররা বলেন করোনা সেই সব ভাইরাস এর একটি। করোনা কোন নতুন ভাইরাস নয়। CDC এটা কে common Human disease হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।এবং এই সমস্ত ধরনের ভাইরাসে মৃত্যুর হার ০.২% বলে তারা বর্ননা করেছেন।


এখন অনেকে প্রশ্ন করতে পারেন, যে তবে দুনিয়াজুড়ে এত মানুষ মারা যাচ্ছে কেন? তাদেরকে বলতে চাই, এমন মানুষ খুব ই কম পাওয়া যাবে যারা মারা যাচ্ছে তাদের অন্য কোন রোগ ছিল না! শুধু করোনা রোগে মারা গেছে এমন রোগী কতজন দেখাতে পারবেন? আপনি বলুন তো বাংলাদেশে যারা এই রোগে মারা গেছে বলা হচ্ছে, তাদের কেউ কি কম বয়স্ক বা অন্য কোন রোগ ছিল না এমন আছেন?

এছাড়া এটা কি জানেন যে, বিশ্বময় যারা মারা যাচ্ছে তাদের ৫০% এর বয়স ৮০ বৎসর এর উপরে। আর বাকিদের বয়স ৫০ থেকে ৮০ বৎসর এর মাঝখানে।আর ১০ – ৫০ বৎসর বয়সের মৃত্যুর হার ০.২%।

এবং যারা মারা গেছে তাদের অধিকাংশ লোক cardiovascular disease , diabetic, hypertension, cronic respiratory disease, cancer সহ আরো অনেক রোগে পীড়িত ছিলেন।আরো জানতে দেখুন:
https://www.worldometers.info/coronavirus/coronavirus-age-sex-demographics/

এ ছাড়া আরো একটা বিষয় জানা থাকা দরকার যে,প্রতিবছর influenza like illness (যেটা এক ধরনের ভাইরাস,যার লক্ষন কথিত করোনার মত ই) এ ইতালিতে ২০০০০- ২৫০০০ লোক মারা যায়।এমনি আমেরিকা তে এই রোগে ৬০০০০-৭০০০০ হাজার লোক মারা যায়। এখন বলুন ত করোনা বা ইনফ্লুয়েঞ্জা তে কি পুর্ববৎসর এর পরিমান লোক এ দেশগুলোতে এখনো মারা গেছে?

নীচে দেখুন করোনা ভাইরাসে এ বছর বয়স হিসেবে মৃত্যুর হারঃ


তাই ত ব্রাজিলের রাষ্ট্রপ্রধান করোনা কে মিডিয়ার কারসাজি বলে অভিহিত করেছেন।আসলে পুরাতন রোগ কে নতুনভাবে উপস্থাপন করে বিশ্বাবাসী কে ভীতসন্ত্রস্ত করা এবং কারো উদ্দেশ্য সাধনের জন্য মিসগাইড করে বিশ্বময় লকডাউন করা এ ভাইরাসের মূল উদ্দেশ্য বলে মনে করাটাই সমীচীন।

“করোনা ভাইরাস” করনীয়

প্রত্যেক বৎসর সিজনাল ভাইরাস বা ফ্লু আসবে এটাই নিয়ম। যাদের ইমিউনিটি শক্তিশালী তারা ইনশাআল্লাহ অল্প সময়েই সুস্থতা লাভ করবে। যদিও এটাকে পুজি করে মেডিসিন কোম্পানি ও বিশ্বশক্তি গুলো নতুন নতুন ভয়ের সৃষ্টি করবে। কেননা যত ভয় তত ব্যবসা। নতুন নতুন ভাইরাস এর নাম দিয়ে নতুন ভ্যাকসিন মার্কেট জাত করে হাজার হাজার কোটি টাকা ব্যাবসা করবে। অথচ ভাইরাস এর কোন মেডিসিন হয় না।একমাত্র মেডিসিন হল strong immune system। ভ্যাক্সিন শুধুমাত্র আমাদের জ্বর কমাতে পারে।ভাইরাস দুর করতে পারে না। আর ভ্যাক্সিন আপনাকে নতুন নতুন রোগ আমদানি করে সারাজীবনের জন্য বিকলাঙ্গ করে দিতে পারে।আরো জানতে দেখুনঃ
https://youtu.be/Y12-8J6fiC4

আল্লাহ তায়ালা আমাদের প্রত্যেক এর শরীরে যে কোন ভাইরাস প্রটেক্ট করার ক্ষমতা দিয়েই সৃস্টি করেছেন। কিন্তু আমরা প্রাকৃতি কে ধ্বংস করে, Commercial packet জাত করা খাবার খেয়ে,অন্ধকার ঘরে আবদ্ধ থেকে, সুর্যের আলো থেকে নিজেকে দূরে রেখে, stress কে সংগী করে, animal protein বেশি খেয়ে, heathy food না খেয়ে মূলত আমরাই আমাদের মালিক আল্লাহ তায়ালার দেওয়া প্রটেকশান ক্ষমতা কে নষ্ট করে ফেলছি। আর সাথে সাথে নিজের নাফস ও দূর্বলের প্রতি জুলুম করে মহান মালিক আল্লাহ তায়ালাকেও আমাদের প্রতি রাগান্বিত করে নিয়েছি।

এ অবস্থায় আমরা ৩ ধাপে শুধু ভাইরাস না বরং সমস্ত ক্রনিক রোগ থেকে মুক্ত হয়ে একটি সুখী,সুন্দর,সমৃদ্ধ জীবন ফিরে পেতে পারি। সমস্ত ভাইরাস থেকে মুক্ত থাকতে দরকার strong immune system. ধরুন ৪ ব্যক্তি বৃস্টিতে ভিজল। কিন্তু দেখবেন ১-২ জন এর জ্বর – সর্দি শুরু হল।আসলে এই ১_২ জন এর ইমিউনিটি দুর্বল।

সমস্ত ভাইরাস ও ক্রনিক রোগ থেকে মুক্ত থাকতে করণীয়

প্রথম ধাপঃ

  1. Sun bathing- সুর্যের আলো হল natural disinfection, যেটা ভাইরাস গুলোকে মারতে সাহায্য করে। আমরা ছোট বেলায় দেখতাম “মায়েরা” যখন চালে পোকা লাগত তখন সেটা রোদে দিত এবং সমস্ত পোকা বের হয়ে যেত। এমনি সুর্রযের আলো আমাদের শরীরের ভাইরাস বা ময়লা পরিস্কার করে এক নতুন ফ্রেস শরীর দান করে। আর আলোই এই দুনিয়ার সমস্ত জীব কে বড় হতে, আল্লাহর হুকুমে বেঁচে থাকতে সাহায্য করে। অথচ আমরা নিজেকে অন্ধকার ঘরে আবদ্ধ করে নিয়েছি। কেমন যেন সমস্ত রোগ কে দাওয়াত দিয়ে এনেছি।

    সুর্যের আলো লাগানোর নিয়ম- সকালের সূর্যালোক উত্তম, প্রত্যহ সকাল বা বিকালে পাতলা সুতীর কাপড় পরে খোলা হাওয়া আছে এমন কোন স্থানে ২০-৩০ মিনিট সুর্যের আলো শরীরে লাগানো। মনে রাখবেন sunlight is the best natural sanitizer.
  2. রোযা রাখা- আচ্ছা বলুন ত এক জায়গায় ২ টা ডাস্টবিন রাখা আছে। একটা তে ময়লা ভরা। আর একটা খালি। বলুন ত মাছি কোন ডাস্টবিনে প্রবেশ করবে? অবশ্যই ভরা ডাস্টবিনে মাছি প্রবেশ করবে। এমনিভাবে যে পেট যত বেশি খালি থাকে সে শরীরে ভাইরাস তত কম প্রবেশ করবে। কেননা রোযা অবস্থায় digestion এর কাজ না থাকায় শরীর detoxification করতে লেগে যায়। পুরনো টিসু গুলো পরিস্কার করে তোলে। তখন আমাদের immune system boost up হয়। তখন আমরা ফিরে পাই শক্তিশালী রোগপ্রতিরোধকারী একটি সুস্থ শরীর। মুসলিমদের জন্য সোমবার ও বৃহস্পতিবার রোযা রাখা সুন্নাত। ইচ্ছা করলে এই ২ টা অথবা যে কোন ১ দিন ত রোযা রাখতেই পারি। দেখবেন ডায়েবেটিস সহ অন্যান্য ক্রনিক রোগ হারিয়ে গেছে ইন শা আল্লাহ।
  3. Healthy food গ্রহন- white sugar, factory made food, commercial packet milk একদম পরিত্যাগ করা। animal protein একদাম সামান্য গ্রহন করা। সকাল বেলা একটা ডাবের পানি/ চাল কুমড়ার জুস/ যে কোন সবজীর জুস পান করা। যা আপনার শরীরকে Detox করতে সাহায্য করবে। এবং এটা সারাদিন শরীরকে ফ্রেস রাখতে সাহায্য করবে।

    দিনের যে কোন মিল ফল দ্বারা করবে।বিশেষজ্ঞ ডাক্তাররা সকাল বেলার মিল টা ফল দ্বারা সম্পন্ন করার পরামর্শ দিয়েছেন।দুপুরে ভাত রুটি খেলেও সমপরিমান সবজি ও সমপরিমান সালাদ থাকতে হবে। রাতে green vegetable খাবে। এবং রাত ৯ টা এর মাঝে খাবার সম্পন্ন করবে। ১১ টা এর মাঝে ঘুমিয়ে পড়বেন।
  4. সারাদিনে ০.২ gm ভিটামিন সি গ্রহন করবেন। লেবু,আমলকি, পেপে, আংগুর, আনারস সহ সব সিজনাল ফলেই ভিটামিন সি থাকে। ডানপন্থী বিশেষজ্ঞ ডাক্তাররা বলেন যারা প্রত্যহ ০.২ gram ভিটামিন-সি গ্রহন করবে তাকে যে কোন ভাইরাস আক্রমণ করারা সম্ভাবনা মাত্র ১০%। এ ভাবে চললে আল্লাহ তায়ালা আমাদের সকল কে সব ধরেনের ক্রনিক রোগ ও ভাইরাস থেকে নিরাপদ রাখবেন।

“করোনা ভাইরাস” মুক্তির উপায়

আল্লাহ তায়ালা মানুষদের কে ভালবেসে করে সৃষ্টি করেছেন। এবং মানুষকে নিরাপদ থাকার সমস্ত উপকরন তাকে দান করেছেন। তাই এর সঠিক ব্যবহার ই আমাদেরকে নিরাপদ জীবন উপহার দিতে পারে। আর আল্লাহ তায়ালা আমাদের উপকারের জন্য ই সমস্ত দুনিয়ার মাখলুক কে সৃষ্টি করেছেন। তাই আমাদের উচিৎ হল অসুস্থ অবস্থায় আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করা আর সুন্নাহ হিসেবে বিশেষজ্ঞ ডাক্তার এর পরামর্শ অনুযায়ী যথাসাধ্য প্রাকৃতিক উপাদানের মাধ্যমে সেবা গ্রহন করা। আজ আমরা করোনা সহ যে কোন ভাইরাস হলে বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী করণীয় সম্পর্কে আলোকপাত করব।

আসলে ইনফ্লুয়েঞ্জা, ডেংগু, চিকুনগুনিয়া ম্যালেরিয়া এর মত করোনাও একটি সাধারন ভাইরাস। এর মৃত্যুর হার ১-২%। যদি অন্য কোন রোগ না থাকে তবে। এবং এ সব ভাইরাসের একটাই চিকিৎসা। তাহা নিম্নে আলোকপাত করা হল।

যদি কেউ করোনা সহ যে কোন ভাইরাসে আক্রান্ত হনতাদের করণীয়

  • যদি আপনার শরীর কোন ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত হয় তবে আপনার শরিরে নিশ্চিত জ্বর আসবে। এই জ্বর হল ভাইরাস শরীর থেকে বের করার জন্য আপনার ইমিউনিটি কতৃক নেওয়া এ্যাকশন। আর এই জ্বর ই আপনার ভাইরাস কে বের করতে সাহায্য করে। অভিজ্ঞ ডাক্তাররা বলেন এ সময় প্যারাসিটামল খাওয়া মানে হল আসলে ভাইরাস কে শরীরে দীর্ঘ সময় থাকতে সাহায্য করা। তাই তখন উচিৎ হল একটু সবর করা। সব সময় ওজু অবস্থায় থাকার চেষ্টা করা। ভিজা কাপড় দিয়ে বার বার স্পঞ্জ করা। ওজু অবস্থায় থাকার কারনে আল্লাহর করুনা ও সাকিনা বর্ষিত হবে আর শরীর মুছে দেওয়ার কারনে রোগীও একটু শান্তি অনুভব করবে। জ্বরের সময় পানি ব্যবহার করা সুন্নাহ। পানি ব্যবহার করে অতিরিক্ত উত্তাপকে কন্ট্রোল করা হচ্ছে, কিন্তু ভিতরের উত্তাপ ঠিক ই থাকবে। যা অতিসত্বর ভাইরাস কে শরীর থেকে বাহিরে ছুড়ে ফেলবে।ইন শা আল্লাহ। ওজুর উপকারিতা সম্পর্কে আরো জানুন
    http://www.ihadis.com/books/mishkatul-masabih/chapter/3
    আরো জানতে পড়ুন
    https://www.hadithbd.com/print.php?hid=55882
  • জ্বর শুরু হলেই 3 step diet এর জন্য প্রস্তুত হতে হবে।

    প্রথম দিন সকাল থেকেই রাত পর্যন্ত
    ব্যক্তির ওজন ÷ ১০
    অর্থাৎ ধরুন আপনার ওজন ৬০ কেজি তবে ৬০ ÷ ১০ = ৬।
    তার মানে আপনাকে ৬ গ্লাস ( প্রত্যেক গ্লাস ৪০০ মি লি) ডাবের পানি ও ৬ গ্লাস citrus juice পান করতে হবে।
    প্রথম ঘন্টা ডাবের পানি পরের ঘন্টা citrus juice পান করবে। ১২ ঘন্টায় ১২ গ্লাস। citrus juice মাল্টা, কমলা লেবু, আংগুর, বেদানা, আপেল, পেয়ারা সহ যে কোন সিজনাল ফল দ্বারা ব্লেন্ড করে বানালেই হবে।কিন্তু খেয়াল রাখতে হবে যে এ জুস গূলো ছাকনি নিয়ে ছাকা যাবে না। জাস্ট ব্লেন্ড করবে এবং পান করবে। তাতে করে fiber ও শরীরে প্রবেশ করবে। ফলগুলো vitamin-c সমৃদ্ধ হলে বেশি ভাল হয়। আর ১ দিন সারাদিন এই ডাবের পানি ও জুস ছাড়া অন্য কিছুই খাবে না।আমেরিকার ফিজিশিয়ানরাও করোনার চিকিৎসার জন্য এখন Vitamin-C ব্যবহার করছে। আরো জানতে newsweek magazine। এর রিপোর্ট দেখুনঃ
    https://www.newsweek.com/new-york-hospitals-vitamin-c-coronavirus-patients-1494407

    ২য় দিন
    আপনার শরীরে ওজন ÷২০ . অর্থাৎ৬০ কেজি ওজনের মানুষের জন্য ৬০÷২০=৩।
    তার মানে আপনাকে সকাল ও দুপুর মিলিয়ে ৩ গ্লাস ডাবের পানি ও ৩ গ্লাস citrus juice পুর্বের দিনের নিয়মে পান করতে হবে।
    এবং রাতে আপনার শরীরের ওজন × ৫. অর্থাৎ ৬০× ৫= ৩০০ গ্রাম শশা ও টমেটো খাবার হিসেবে গ্রহন করতে হবে।

    দেখবেন দিনশেষে আপনার জ্বর শরীর থেকে বিদায় নিতে শুরু করেছে।৪)

    ৩য় দিন
    আপনার শরীরে ওজন ÷৩০ অর্থাৎ৬০ কেজি ওজনের মানুষের জন্য ৬০÷৩০=২। তার মানে আপনাকে সকাল থেকে দুপুর নাগাদ ২ গ্লাস ডাবের পানি ও ২ গ্লাস citrus juice পুর্বের দিনের নিয়মে পান করতে হবে। এবং দুপুরে আপনার শরীরের ওজন× ৫ অর্থাৎ ৬০× ৫ =৩০০ গ্রাম শশা ও টমেটো খাবার হিসেবে গ্রহন করতে হবে।

    রাতে স্বাভাবিক ঘরের রান্না করা খাবার গ্রহন করতে পারবেন। লবন ও তেল কম ব্যাবহার করতে হবে। আর animal protein /animal food একদম ব্যবহার করা যাবে না।

    ৪ র্থ দিন
    আপনি একদম ফ্রেস, সুস্থ অনুভব করবেন। এবং ভাইরাস মুক্ত নতুন মানুষে পরিণত হবেন। ইন শা আল্লাহ আপনি এ থিওরির রেজাল্ট দেখে আশ্চর্য হয়ে যাবেন। আর এটা যে কোন ভাইরাসের ক্ষেত্রে সমানভাবে কার্যকরী।

    এ দিন স্বাভাবিক খাবার গ্রহন করবেন। সাথে সকাল ও বিকালে হালকা গরম পানিতে এক চামচ মধু ও কয়েক ফোটা কালোজিরার তেল দিয়ে পান করবে।কালোজিরা ও মধু আপনাকে শরীরে নব শক্তি যোগাতে সাহায্য করবে।আমেরিকা সরকার করোনার জন্য যে ২ টি ঔষুধ ব্যবহার করছে তার একটি হল Hydroxycholoroquine. বিশেষজ্ঞ ডাক্তাররা বলছেন এটা আসলে কালোজিরার নির্যাস থেকে তৈরী। এ সম্পর্কে আরো জানতে ভিজিট করুনঃ
    https://www.newsweek.com/hydroxychloroquine-coronavirus-conventional-care-study-1494176
    আমাদের প্রিয় রসুল সাঃ বলেছেন কালোজিরা মৃত্যু ব্যতিত সব রোগের ঔষুধ। আরো জানতেঃ
    https://thecognate.com/nigella-sativa-every-disease-has-a-cure-decelerating-the-covid-19-pandemic/
    এবং এ দিন বেশি বেশি সালাদ খাবেন। সালাদের সাথে আমাদের প্রিয় নবী সল্লাল্লহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর অত্যন্ত প্রিয় খাবার জয়তুন এর তেল অল্প করে গ্রহন করবেন। যা সালাদে নিয়ে আসবে নতুন স্বাদ। আর আপনার শরীরে ভাইরাসের কারনে কোন ইনফেকশন থাকলে সেটাকে দূর করে দেবে ইন শা আল্লহ। কেননা Olive Oil is the best anti-septic in the world.
    আরও জানতেঃ
    ১। https://pubmed.ncbi.nlm.nih.gov/17536679/
    ২। http://www.ibecbarcelona.eu/el-aceite-de-oliva-ofrece-dos-poderosas-armas-en-la-lucha-contra-la-resistencia-bacteriana/
    ৩। https://www.oliveoiltimes.com/health-news/olive-oil-and-infection/51057

    আর ৫ ম দিন থেকে আপনি সমস্ত কাজ আগের মত ই করতে পারবেন। ইন শা আল্লাহ।

বিস্তারিত জানতে দেখুন স্বনামধন্য নিউট্রিশনিস্ট ড. বিশ্বরূপ রায় চৌধুরির স্বাক্ষাতকার।

কার্টেসিঃ মাওলানা মাসুম বিল্লাহ

বিশ্বনন্দিত ফেসিয়াল কাপিং মাসাজ এখন বাংলাদেশে

Facial Cupping একটি কার্যকর এন্টি-এইজিং চিকিৎসা যা ছোট ভ্যাকিউয়াম কাপ দ্বারা করা হয় ফলে ফেসিয়াল টিস্যুর রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি পায় এবং ত্বকের পুষ্টি বৃদ্ধির মাধ্যমে তা মসৃণ ও নিখুত করে।

পড়তে থাকুন

হিজামা কি?

হিজামা শব্দটি আরবি হাজামা বা হাজ্জামা ক্রিয়া থেকে এসেছে যার অর্থ হচ্ছে কমিয়ে ফেলা, আসল আকারে ফিরিয়ে নেয়া, বা আকারে ছোট করে ফেলা ইত্যাদি।
আরবিতে তারা বলে যে এক লোক সমস্যাটা ছোট করে ফেলেছে- এর অর্থ হচ্ছে “সে সমস্যাটা আগে অবস্থায় ফিরিয়ে নিয়ে গেছে।”

পড়তে থাকুন

হিজামার ইতিহাস

হিজামা (কাপিং থেরাপী) একটি সহজ, নিরাপদ এবং একই সময়ে খুবই কার্যকারী চিকিৎসা ব্যবস্থা। এটি মূল চিকিৎসা ব্যস্থার সাথে একটি অল্টারনেটিভ থেরাপী হিসেবে হাজার বছর ধরে চর্চা হয়ে আসছে। প্রাচীন মিশরীয় এবং চাইনিজ চিকিৎসকদের আদি লিপি হতে এর নিশ্চিত প্রমাণ পাওয়া যায়।

পড়তে থাকুন