লোড হচ্ছে
অপেক্ষা করুন

আমাদের ব্লগ

৪ দিনেই বিদায় নেবে কোভিড- ১৯

admin
May 25, 2020
Uncategorized

যদি কেউ করোনা বা অন্য যে কোন ভাইরাসে আক্রান্ত হন তাদের করণীয়-

যদি আপনার শরীর কোন ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত হয় তবে আপনার শরিরে নিশ্চিত জ্বর আসবে। এই জ্বর হল ভাইরাসকে শরীর থেকে বের করার জন্য আপনার ইমিউনিটি কর্তৃক নেওয়া এ্যাকশন। আর এই জ্বর ই আপনার ভাইরাস কে বের করতে সাহায্য করে। অভিজ্ঞ ডাক্তাররা বলেন এ সময় প্যারাসিটামল খাওয়া মানে হল আসলে ভাইরাস কে শরীরে দীর্ঘ সময় থাকতে সাহায্য করা। তাই যদি জ্বর অনেক বেশি উঠে যায় আর তা স্পঞ্জ করে কন্ট্রোল করা যায়, তখন উচিৎ হল একটু সবর করা। সব সময় ওজু অবস্থায় থাকার চেষ্টা করা। ভিজা কাপড় দিয়ে বার বার স্পঞ্জ করা। ওজু অবস্থায় থাকার কারনে আল্লাহর করুনা ও সাকিনা বর্ষিত হবে আর শরীর মুছে দেওয়ার কারনে রোগীও একটু শান্তি অনুভব করবে। জ্বরের সময় পানি ব্যবহার করা সুন্নাহ। এই ব্যাপারে হাদীস আছে। পানি ব্যবহার করে অতিরিক্ত উত্তাপকে কন্ট্রোল করা হচ্ছে, কিন্তু ভিতরের উত্তাপ ঠিক ই থাকবে। যা অতিসত্বর ভাইরাস কে দূর্বল করে ফেলবে ইন শা আল্লাহ।

ওযুর উপকারিতা সম্পর্কে আরো জানুন
http://www.ihadis.com/books/mishkatul-masabih/chapter/3
আরো জানতে পড়ুন
https://www.hadithbd.com/print.php?hid=55882

জ্বর শুরু হলেই 3 step diet এর জন্য প্রস্তুত হতে হবে।

প্রথম দিন সকাল থেকেই রাত পর্যন্ত
ব্যক্তির ওজন ÷ ১০
অর্থাৎ ধরুন আপনার ওজন ৬০ কেজি তবে ৬০ ÷ ১০ = ৬।
তার মানে আপনাকে ৬ গ্লাস ( প্রত্যেক গ্লাস ৪০০ মি লি) ডাবের পানি ও ৬ গ্লাস citrus juice পান করতে হবে।
প্রথম ঘন্টা ডাবের পানি পরের ঘন্টা citrus juice পান করবেন। ১২ ঘন্টায় ১২ গ্লাস। citrus juice মাল্টা, কমলা লেবু, আংগুর, বেদানা, আপেল, পেয়ারা সহ যে কোন সিজনাল ফল দ্বারা ব্লেন্ড করে বানালেই হবে।কিন্তু খেয়াল রাখতে হবে যে এ জুস গূলো ছাকনি নিয়ে ছাকা যাবে না। জাস্ট ব্লেন্ড করবে এবং পান করবে। বাসায় ব্লেন্ডার তাতে করে fiber ও শরীরে প্রবেশ করবে। ফলগুলো vitamin-c সমৃদ্ধ হলে বেশি ভাল হয়। আর ১ দিন সারাদিন এই ডাবের পানি ও জুস ছাড়া অন্য কিছুই খাবেন না।

আমেরিকার ফিজিশিয়ানরাও করোনার চিকিৎসার জন্য এখন Vitamin-C, Vitamin- A ও Vitamin- D ব্যবহার করছে। আরো জানতে newsweek magazine। এর রিপোর্ট দেখুনঃ
https://www.newsweek.com/new-york-hospitals-vitamin-c-coronavirus-patients-1494407

২য় দিন
আপনার শরীরে ওজন ÷২০ . অর্থাৎ৬০ কেজি ওজনের মানুষের জন্য ৬০÷২০=৩।
তার মানে আপনাকে সকাল ও দুপুর মিলিয়ে ৩ গ্লাস ডাবের পানি ও ৩ গ্লাস citrus juice পুর্বের দিনের নিয়মে পান করতে হবে।
এবং রাতে আপনার শরীরের ওজন × ৫. অর্থাৎ ৬০× ৫= ৩০০ গ্রাম শশা ও টমেটো খাবার হিসেবে গ্রহন করতে হবে।

দেখবেন দিনশেষে আপনার জ্বর শরীর থেকে বিদায় নিতে শুরু করেছে।

৩য় দিন
আপনার শরীরে ওজন ÷৩০ অর্থাৎ৬০ কেজি ওজনের মানুষের জন্য ৬০÷৩০=২। তার মানে আপনাকে সকাল থেকে দুপুর নাগাদ ২ গ্লাস ডাবের পানি ও ২ গ্লাস citrus juice পুর্বের দিনের নিয়মে পান করতে হবে। এবং দুপুরে আপনার শরীরের ওজন× ৫ অর্থাৎ ৬০× ৫ =৩০০ গ্রাম শশা ও টমেটো খাবার হিসেবে গ্রহন করতে হবে।

রাতে স্বাভাবিক ঘরের রান্না করা খাবার গ্রহন করতে পারবেন। লবন ও তেল কম ব্যাবহার করতে হবে। আর animal protein /animal food একদম ব্যবহার করা যাবে না।

৪র্থ দিন
আপনি একদম ফ্রেস, সুস্থ অনুভব করবেন। এবং ভাইরাস মুক্ত নতুন মানুষে পরিণত হবেন ইন শা আল্লাহ। আপনি এ থিওরির রেজাল্ট দেখে আশ্চর্য হয়ে যাবেন। আর এটা যে কোন ভাইরাসের ক্ষেত্রে সমানভাবে কার্যকরী।

এ দিন স্বাভাবিক খাবার গ্রহন করবেন। সাথে সকাল ও বিকালে হালকা গরম পানিতে এক চামচ মধু ও কয়েক ফোটা কালোজিরার তেল দিয়ে পান করবে।কালোজিরা ও মধু আপনাকে শরীরে নব শক্তি যোগাতে সাহায্য করবে।

আমাদের প্রিয় রসুল সাঃ বলেছেন কালোজিরা মৃত্যু ব্যতিত সব রোগের ঔষুধ। আরো জানতেঃ
https://thecognate.com/nigella-sativa-every-disease-has-a-cure-decelerating-the-covid-19-pandemic/
এবং এ দিন বেশি বেশি সালাদ খাবেন। সালাদের সাথে আমাদের প্রিয় নবী সল্লাল্লহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর অত্যন্ত প্রিয় খাবার জয়তুন এর তেল অল্প করে গ্রহন করবেন। যা সালাদে নিয়ে আসবে নতুন স্বাদ। আর আপনার শরীরে ভাইরাসের কারনে কোন ইনফেকশন থাকলে সেটাকে দূর করে দেবে ইন শা আল্লহ। কেননা Olive Oil is the best anti-septic in the world.

আরও জানতেঃ
১। https://pubmed.ncbi.nlm.nih.gov/17536679/
২। http://www.ibecbarcelona.eu/el-aceite-de-oliva-ofrece-dos-poderosas-armas-en-la-lucha-contra-la-resistencia-bacteriana/
৩। https://www.oliveoiltimes.com/health-news/olive-oil-and-infection/51057

৪। সাইট্রাস ফ্রুটে আছে ভিটামিন সি, যা আলফা ও বিটা ইন্টারফেরন তৈরি করে, আর প্রো ইনফ্লামেটরি সাইটোকাইন কমায়, যেটা কোভিড পেশেন্টে খুব জরুরী। বিস্তারিতঃ

vitamin C has beneficial immunomodulating properties in patients with viral infections, predominantly by increasing the production of α/β interferons and downregulating the production of pro-inflammatory cytokines.


আর ৫ ম দিন থেকে আপনি সমস্ত কাজ আগের মত ই করতে পারবেন। ইন শা আল্লাহ।

অন্যান্য সাপোর্টিভ থেরাপীঃ

  • পাশাপাশি দিনে ৪ বার নেবেন গরম পানির ভাপ, এটা আপনার শ্বাসযন্ত্রের আদ্রতা বজায় রাখবে।
  • প্রতিদিন কয়েকবার খেতে পারেন তুলসী পাতা, পুদিনা পাতা, আদা ও গরম মসলা দিয়ে হালকা লিকারের চিনি ছাড়া চা।
  • খোলা বাতাসে ও সূর্যের আলেতে থাকার চেষ্টা করবেন, দরজা জানালা খুলে রাখবেন যাতে রুমে অক্সিজের সমৃদ্ধ বাতাস ও রোদের আলো আসে। প্রয়োজনে সকাল ও বিকেলে বারান্দা বা ছাদে গিয়ে গায়ে রোদ লাগাবেন।
  • প্রতিদিন কুসুম গরম পানিতে লবন মিশিয়ে গড়গড়া করবেন অন্তত ৪ বার। এটা আপনার গলার মিউকাসগুলোকে ক্লিন করবে।
  • নাক ও সাইনাস ক্লিনিজিং এর জন্য ব্যবহার করুন সাইনাস ক্লিনজিং বটল বা নেতি পট, লকডাউনে নেতি অট না পেলে সাধারণ নতুন প্লাস্টিকের বদনাও এই কাজে ব্যবহার করতে পারেন।
  • প্রতিদিন যত বার পারেন লম্বা সময় ধরে মেসওয়াক করবেন।
  • প্রতিদিন খাবেন কালজিরা বা কালজিরার তেল, কালজিরা আপনার এ্যান্টিবডি প্রোডাকশানে হেল্প করবে, রক্তকে জমাট বাঁধতে দেবে না। ফলে স্ট্রোক, হার্ট এ্যটাক ও ডীপ ভেইন থ্রম্বোসিসের সম্ভাবনা কমবে। কালজিরা একই সাথে এন্টি ভাইরাল, এন্টি ব্যাক্টেরিয়াল ও এন্টি ফাঙ্গাল এজেন্ট হিসেবে কাজ করবে।
  • পাশাপাশি প্রতিদিন মধু খাবেন। আপনি চাইলে কালজিরার তেল, অলিভ অয়েল ও মধু মিক্স করে খেতে পারেন।
  • এই সকল এ্যাডভাইস মেনে চলার পাশাপাশি আপনি ফিজিশিয়ানদের যে কোন এ্যাডভাইস ও ঔষধ নিতে পারবেন। অনেকেরই সর্দি- কাশির জন্য এন্টি হিস্টামিন এবং ন্যাসাল ডিকনজেস্টেন্ট লাগতে পারে।
  • এছাড়া মাঝের কোন একদিন হিজামা করাতে পারেন, হিজামা নাইট্রিক অক্সাইড বুস্ট করে, নাইট্রিক অক্সাইড করোনা ভাইরাস এর বংশ বিস্তার বন্ধ করে দেয়।
    আরও জানতেঃ
    ১। Dual effect of nitric oxide on SARS-CoV replication: Viral RNA production and palmitoylation of the S protein are affected
    ২। Nitric oxide and virus infection
    ৩। An Antiviral Mechanism of Nitric Oxide: Inhibition of a Viral Protease
    ৪। How a discovery that brought us Viagra could help those battling the coronavirus

অন্যান্য সিম্পটমঃ

জ্বর ছাড়াও কোভিড পেশেন্টদের মধ্যে সবচেয়ে কমন হচ্ছে এ্যানোসমিয়া ও ডিসপেপসিয়া। অর্থাৎ ঘ্রানশক্তি লোপ পাওয়া ও স্বাদ পরিবর্তন হয়ে যাওয়া। এই পরিবর্তন দুটো সাধারনত জ্বরের তৃতীয় বা চতুর্থ দিন থেকে শুরু হয়। এবং পুরোপুরি ঠিক হতে এক থেকে তিন সপ্তাহ লাগতে পারে। জ্বর শুরু হওয়ার দিন থেকেই যদি আপনি অবহেলা না করে আমাদের প্ল্যান অনুযায়ী কাজ করেন তবে এ্যাডভান্সড লেভেলের সিম্পটম যেমন শ্বাসকষ্ট ও নিউমোনিয়া এ্যাভয়েড করতে পারবেন এবং তিন দিনের মধ্যেই আপনার অবস্থা পরিবর্তন হবে ইন শা আল্লহ।

এছাড়াও কোভিড আক্রান্তদের সবারই ডিপ ব্রিদিং এ কিছুটা সমস্যা হতে পারে। এর জন্য প্রতিদিন ব্রিদিং এক্সারসাইজ করতে হবে।

খেয়াল রাখতে হবে যে, পেশেন্টদের গ্যাস্ট্রাইটিস ডেভেলপ করলে ফেইক শ্বাসকষ্ট হতে পারে যা গ্যাসের ঔষধ খেলে চলে যাবে।

যারা এখনো আক্রান্ত হননিঃ

যারা কোভিড আক্রান্ত হননি তারা মানসিকভাবে প্রসুতি নিয়ে রাখুন, কারন এটা এমন এক ভাইরাস যেটা থেকে বেঁচে থাকা প্রায় অসম্ভব, তাই আক্রান্ত হলে যেন প্রস্তুতি থাকে। যেমন যাদের কো মরবিডিটি (অর্থাৎ যে সকল রোগ থাকলে করোনা ভাইরাস ইনফেকশানে সিভিয়ার কন্ডিশান বা মৃত্যু হতে পারে) আছে তাদের উচিৎ হবে এই কো মরবিড কন্ডিশানগুলোকে প্রপার ডায়েট ও স্বাস্থ্যসম্মত অভ্যাসের মাধ্যমে কন্ট্রোলে নিয়ে আসতে। আজই ভাত, চিনি, রুটি- অর্থাৎ শর্করা খাওয়া কমিয়ে দিন। ফ্রি হ্যান্ড এক্সারসাইজ করুন। হিজামা করেও ইমিউনিটি বুস্ট করতে পারেন। হিজামা (Wet Cupping) সেন্টারের ঠিকানা জানতে ক্লিক করুন এখানে

আফটার কেয়ার

করোনা তো কয়েকদিন পরে ভাল হয়ে যাবে ইন শা আল্লহ, কিন্তু করোনা ইনফেকশানের ফলে আমাদের ফুসফুস কিছু মাত্রায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর ফলে পরবর্তী ছয় মাস বুকে একটি চাপ অনুভিব হতে পারে। সঠিক ভাবে ব্রিদিং এক্সারসাইজ করলে এই চাপ চাপ ভাবটা ৭ দিনেই দূর হওয়া সম্ভব।

একারনে কোভিড রোগিদের ভাল হওয়ার পরে বেশি বেশি এক্সারসাইজ করা দরকার যাতে ফুসফিস খুব তাড়াতাড়ি আবার পুরোপুরি কর্মক্ষম হয়।

আর হ্যা, উপকার পেলে আপডেট জানাতে ভুলবেন না। এখানেই কমেন্ট করে আপডেট জানাবেন।

যাজাকুমুল্ল খইর।

কার্টেসিঃ মাওলানা মাসুম বিল্লাহ, ন্যাচারোপ্যাথ এক্সপার্ট

সম্পাদনাঃ ডা. মোহাম্মাদ সাইফুল আলম তালুকদার, কনসালটেন্ট, হিজামা প্ল্যানেট।

4 responses to “৪ দিনেই বিদায় নেবে কোভিড- ১৯”

  1. খালিদ says:

    অসাধারণ কম্বিনেশন।
    এর উপরে ২/১ টা কেস স্ট্যাডিও যোগ করার অনুরোধ রইল।

  2. Fatima Tahmim says:

    জাঝাকাল্লহ খইর!
    আচ্ছা একটা প্রশ্ন, আশে পাশে অনেকেই আছেন, যাদের সামর্থ্য নেই যে তারা ডাব কিনে ডাবের পানি পান করবেন। citrus juice এর ক্ষেত্রে নাহয় লেবু সবার সামর্থ্যের মধ্যে!
    এমতাবস্থায়, ডাবের পানির পরিবর্তে কি খেতে পারে?

    • admin says:

      জ্বী, লেবু খেলেই হবে, যত বেশি খাওয়া যায়, যাদের একবারেই সামর্থ নেই তারা ঔষধের দোকান থেকে ভিটামিন সি খাবে। যাদের সামর্থ আছে আমরা তাদের আমরা ন্যাচারাল খেতেই উৎসাহ দেই। ডাবের পরিবর্তে পটাসিয়াম রিচ ফল হিসেবে কলা খেতে পারে। শসা ও টমেটোও ভাল অপশান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!