লোড হচ্ছে
অপেক্ষা করুন

হিজামার কাপ ও যন্ত্রপাতি কেন ডিসপোজেবল হওয়া উচিৎ?

আপনারা যারা যারা ডিসপজেবল হিজামা কাপ রি-ইউজ করছেন তারা সকলেই হাশরের ময়দানে ধরা খাবেন বান্দার হক্ব নষ্ট করার জন্য। বাংলাদেশে যে কাপগুলো পাওয়া যায় এগুলো স্টেরিলাইজ বা জীবানুমুক্ত করা যায় না। এগুলো বার বার ব্যাবহার করার মাধ্যমে এক রোগীর জীবানু অপর রোগীর শরীরে চলে যেতে পারে।অনেকের কাছেই শুনছি যে যারা ট্রেনিং দিচ্ছেন তারা বলছেন সাবান/ শ্যাম্পু/ ডিটারজেন্ট বা ডেটল পানি দিয়ে ধুয়ে কাপ রিইউজ করার পরামর্শ দেন বা অনেক থেরাপিস্ট এত এত বছর ধরে এভাবে করেন। আসলে এভাবে কাপ জীবানুমুক্ত করা সম্ভব নয়। ফুটানো পানিতে আধা ঘন্টা সিদ্ধ করলেও এগুলো জীবানুমুক্ত হয় না।অনেকেই বলবেন যে রোগ ছড়ায় না। তাদের জন্যঃসিরিয়ায় একবার ব্যাপক আকারে মহামারীরুপে প্লেগ দেখা দিয়েছিলো। হযরত ওমর (রা.) সাহাবাদের সাথে সেখানে রওয়ানা হয়েছিলেন, কিন্তু এখবর পাওয়ার পর যাত্রা স্থগিত করেন। একজন সাহাবী জিজ্ঞেস করলেন, হে আমীরুল মুমেনীন! আপনি কি আল্লাহর লেখা তাক্বদির থেকে পলায়ন করছেন? তিনি বললেন, হাঁ, আমি আল্লাহর লেখা একটি তাক্বদির থেকে অন্য একটি তাক্বদিরের দিকে পলায়ন করছি। অর্থাৎ, রোগ থেকে দুরে চলে যাওয়াও তাক্বদিরের একটি অংশ।এটা অনেকটা এমন যে, আল্লহর হুকুম ছাড়া মউত হয় না, তাই আপনি কি ছাদ থেকে লাফ দিয়ে টেস্ট করবেন যে মউত হয় কিনা? সৌদি আরবে অযোগ্য লোকদের হিজামা প্র্যাকটিস ও ডিসপজেবল ম্যাটেরিয়াল মাল্টিপল ব্যাবহারের কারনে হিজামা ব্যান করে দেয়া হয়েছিল। এরপর নিয়ম হয়েছে মিনিমাম ৬ মাসের মেডিকেল এডুকেশানের ব্যাকগ্রাউন্ড আছে এমন ব্যাক্তি ছাড়া কেউ হিজামা করতে পারবে না।হিজামার ব্যাপারটা এমন হয়েছে যে সেদিন দেখলাম এক লোক দারিদ্র বিমোচনের জন্য হিজামা শিখাচ্ছেন। আপনাদের জন্য আমি বলব- আল্লহকে ভয় করুন। সুন্নতকে কলুষিত করবেন না। ইসলামে চিকিৎসা বিজ্ঞান একটি আলাদা অংশ। এর ইলম হাসিল না করে চিকিৎসা করা নিষেধ।আমার মনে হয় এই ব্যাপারে মুফতি সাহেবদের ফতোয়া তৈরি করা উচিৎ যাতে মানুষ সাবধান হয়। সরকার বা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় যদি এই যথেচ্ছাচারের ব্যাপারে জানতে পারে তবে তা এই সুন্নতী চিকিৎসার ভবিষ্যতের জন্য ভাল হবে না।কাপ রিইউজ করলে অনেক ধরনের রোগ হতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে জীবনঘাতী এইডস, হেপাটাইটিস বি ও সি (এগুলো থেকে হতে পারে লিভার সিরোসিস বা লিভার ক্যান্সারের মত রোগ), হতে পারে ইনফেকশান (স্কিন ইনফেকশান, সেপটিসেমিয়া ও যৌন রোগের মত সমস্যা), যা কারন হতে পারে মৃত্যুর, ডেকে নিয়ে আসতে পারে পঙ্গুত্ব।